Jadavpur Graffiti : শুভেন্দুর হুংকারের পরে দেশবিরোধী শ্লোগান মোছার পরেই ফের রাতের অন্ধকারে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা হল কার্ল মার্ক্সের উক্তি; নিন্দায় সরব এবিভিপি, খোলা চ্যালেঞ্জ এসএফআইয়ের
ভারত নিউজ ২৪*৭
মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে কার্যত খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দেওয়ালে লেখা দেশবিরোধী শ্লোগান মুছে দেওয়া হয়েছিল সাদা রঙ দিয়ে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই সাদা রঙের উপরেই লিখে দেওয়া হয়েছে কার্ল মার্ক্সের উক্তি। এটা যে বামপন্থী বা উগ্র বামপন্থীদের কাজ সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। তবে কোন সংগঠন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে এহেন কাজ করেছে তা স্পষ্ট নয়। এদিকে ফের এই দেওয়াল লিখনের তীব্র সমালোচনা করেছে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কিছুতেই বরদাস্ত করবেন না। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা উগ্রবামপন্থীদের দেশ বিরোধী শ্লোগান মুছে ফেলার নির্দেশ দেন। মাথায় রাখতে হবে, গত কয়েকদিন ধরেই খবরের শিরোনামে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম এবিভিপি ও এসএফআই-এর সংঘর্ষ হয়। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত।
এমন অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও যাদবপুর উঠে আসে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, কীভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের দেওয়ালে ‘কিষেনজি স্যালুট’ স্লোগান লেখা হয়? সেখানে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান ঠিক কীভাবে ওঠে? আর এই সব দেশবিরোধী স্লোগানের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁরা মুখ থেকে বার্তা পাওয়ার পরই অ্যাক্টিভ হয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বেশ কিছু স্লোগানের উপর সাদা রং করে দেয়। যদিও কর্তৃপক্ষ এটা মানতে চায়নি যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে এই কাজ করা হয়েছে। বরং তারা দাবি করেছে, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন কাজ। সেই মতোই দেওয়াল লিখনের উপর রং করা হয়েছে। যদিও এই কাজ করার পর বেশি সময় কাটতে পারেনি। বরং রাতের বেলাতেই ফের দেওয়ালে স্লোগান লিখে দেওয়া হল। এমনকী আঁকা হয়েছে গ্রাফিতি। আর বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনার পারদ চড়েছে।
আজ সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত প্রেক্ষাগৃহ বা ওপেন এয়ার থিয়েটারের দেওয়ালে লেখা হয় কার্ল মাক্সের ৪ লাইন উক্তি। ইংরাজিতে লেখা ওই উক্তির বাংলা তর্জমা করলে হয়, ‘আমাদের করুণা নেই/ আমরা তোমাদের কাছ থেকেও কোনো করুণা চাই না। যখন আমাদের পালা আসবে, তখনকার সন্ত্রাসের জন্য কোনও অজুহাত খুঁজব না।’
এর প্রতিক্রিয়ায় এবিভিপি একটা বড়সড় পোস্ট করেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘কার্ল মার্ক্সের এই উক্তিটা দেখলেই একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে যায়-চরম বামপন্থী রাজনীতির একটা বড় অংশে রাজনৈতিক হিংসার জায়গাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এখনও কিছু ক্ষেত্রে আছে। বামপন্থীরা সবসময় সমতা, ন্যায়বিচার, শোষিত মানুষের অধিকার-এই বিষয়গুলোর কথা বলে। কথাগুলো শুনতে অবশ্যই ভালো লাগে। কিন্তু ইতিহাসটা একটু ভালো করে দেখলে অন্য একটা ছবিও সামনে আসে। বিভিন্ন দেশে বিপ্লব ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে ভয়ংকর হিংসা, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার হয়েছে।’
এই নয়া ঘটনা নিয়ে নিন্দায় বিজেপি নেতা তথাগত রায়ও। তিনি এক্স-এ লেখেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও এক সুবিধাবাদী কার্ল মার্ক্সের একটি উদ্ধৃতি লিখে দিয়েছে। বেশ ভালোই। তবে বিশ্বের কাছে প্রত্যাখ্যাত, ব্যর্থ এই দার্শনিককে এখনও মনে রাখার ক্ষমতা একমাত্র বাংলার বামপন্থীদেরই আছে…’















































