কংগ্রেসের দলীয় অনুষ্ঠানে বন্দেমাতরমের প্রথম দুই স্তবক, ১৯৩৭-এর সিদ্ধান্তেই আস্থা
ভারত নিউজ ২৪*৭
নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের নির্দেশিকা মেনে নয়, বরং ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের পথেই হাঁটল জাতীয় কংগ্রেস। দলীয় কর্মসূচিতে সম্পূর্ণ ‘বন্দেমাতরম’ (Vande Mataram) গাওয়া হবে না। তার পরিবর্তে গাওয়া হবে গানটির প্রথম দুটি স্তবক। বুধবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে (Congress Working Committee) এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী-সহ শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত হয়। দলের বক্তব্য, বিষয়টি কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নয়। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেসের অধিবেশনে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দলীয় অনুষ্ঠানে বন্দেমাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, সেই সময় কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মধ্যে ছিলেন মহাত্মা গান্ধী ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রস্তাবিত বন্দেমাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার বিষয়টিকেই কংগ্রেস এবার দলীয় কর্মসূচিতে অনুসরণ করতে চাইছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে বিতর্কের সূত্রপাত
বন্দেমাতরম নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে। কংগ্রেসের সদর দফতরে পতাকা উত্তোলনের সময় সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গান গাওয়ার ক্ষেত্রে সোনিয়া গান্ধী অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন—এমন দাবি করে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিজেপি। এরপরই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর (Bengal Politics)।
যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেই দাবি খারিজ করা হয়েছে। দলের নেতা জয়রাম রমেশের বক্তব্য, সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গাওয়া নিয়ে সোনিয়া গান্ধী আপত্তি জানাননি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে অসুস্থ থাকায় তাঁর বসার জন্য একটি চেয়ার দেওয়ার অনুরোধ করছিলেন সোনিয়া—সেই ঘটনাকেই অন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে কংগ্রেসের দাবি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির একাধিক নেতা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বন্দেমাতরম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দলীয় অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ গান না গেয়ে প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তকে কংগ্রেস ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা হিসেবেই তুলে ধরছে।
অন্যদিকে, বন্দেমাতরমকে ঘিরে বিজেপি-কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক যে আরও জোরদার হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট—এটি মোদি সরকারের কোনও নতুন নির্দেশ মেনে নেওয়া নয়; বরং ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস অধিবেশনে নির্ধারিত নীতির ভিত্তিতেই দলীয় কর্মসূচিতে বন্দেমাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গাওয়া হবে।















































