ভারত নিউজ ২৪*৭
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের সিদ্ধান্তে আপাতত হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আগামী দু মাসের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
এই পর্যবেক্ষণ জানানোর পাশাপাশি মামলা আবার সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেয় বিচারপতির শম্পা সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ। যার ফলে বড়সড় ধাক্কা খেলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল।
বিরোধী দলনেতা কে, তা নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল ও আসল তৃণমূলের দড়ি টানাটানি চলছে সরকার গঠনের পর থেকে। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে ঋতব্রতর নামে সিলমোহর দিতেই ঘটনার জল গড়ায় আদালতে।
এর বিরোধিতায় হাই কোর্টে মামলা করেন কালীঘাট তৃণমূলের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। হাই কোর্টে মামলার শুনানি চলাকালীন ঋতব্রত শিবির ও স্পিকারকে বেশকিছু প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। কেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও ঋতব্রতদের গুরুত্ব দেওয়া হল? কেনই বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের প্রথম চিঠি অগ্রাহ্য করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের চিঠিতেই সিলমোহর পড়ল? এসব প্রশ্ন ওঠে।
মঙ্গলবার সেই মামলা ওঠে বিচারপতি শম্পা সরকার ও অজয়কুমার গুপ্তার এজলাসে। শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানাল, এই মামলায় তাঁরা হস্তক্ষেপ করবে না। মামলাটি ফেরত পাঠানো হল সিঙ্গল বেঞ্চে। আদালতের তরফে বলা হয়েছে, আগামী ২ মাসের মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে সিঙ্গল বেঞ্চকে। ততদিন অর্থাৎ আগামী ২ মাস বিরোধী দলনেতার পদে থাকবেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তবে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদল হতেই পারে। পাশাপাশি এদিন আদালতের তরফে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্পিকারের সিদ্ধান্ত অস্থায়ী। ঘটনার জল যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে মনে করা হচ্ছে, এবার এই বিরোধী দলনেতা মামলা যেতে পারে শীর্ষ আদালতে।
অন্যদিকে বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি পাঠালেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়।
বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু যথাযথ তদন্ত চেয়ে আমরা আজ মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। তিনি আমাদের সদস্য ছিলেন। ওনার ছেলের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। এই অস্বাভাবিক মৃত্যু অনেক অপ্রিয় প্রশ্ন এনেছে, টেন্ডারকে কেন্দ্র করে হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছিল কি না? অন্যান্য সংস্থায় এই উন্নয়ন পর্ষদ নিয়ে অভিযোগ এসেছে, নানা জায়গা থেকে, একজনকে হুমকি দিতে দেখা গিয়েছিল তাকেও অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। কিছুদিনে আগেও ওনার সঙ্গে আমার কথা হয়। তখনও এমনটা হবে আমি বুঝতে পারিনি।’















































