ভারত নিউজ ২৪*৭
‘গীতা দেবী আজ এখানে এসে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে তিনি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীকেই ভরসা করেন এবং বিশ্বাস করেন যে বিজেপি সরকার সকলের কথা ভাবে।’ গত শনিবার পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে দুধ গরম করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ধমকের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা বৃদ্ধা মহিলা মঙ্গলবার সোজাসুজি হাজির হলেন জনতার দরবারে। এদিন তিনি সরাসরি দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ একান্ত কথা বলার পর মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানান যে, ওই বৃদ্ধা মহিলা কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেননি।
এদিনের বৈঠক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার বা থাকার জায়গা নয়। বর্তমান বিজেপি সরকার সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করছে এবং বিজেপি সবার। যারা বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে নানা ধরনের কবিতা বা কটূক্তি লিখছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলব, বিগত পঞ্চাশ বছর ধরে রাজ্যে কী হয়েছে, তার খোঁজ একটু নিয়ে দেখুন। গীতা দেবী আজ এখানে এসে পরিষ্কার জানিয়েছেন যে তিনি একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীকেই ভরসা করেন এবং বিশ্বাস করেন যে বিজেপি সরকার সকলের কথা ভাবে।’
মঙ্গলবার বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষের সঙ্গে সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হন সীতা ওরফে রশিদা। সঙ্গে ছিলের তার মেয়ে ও দুই নাবালিকা নাতনি। মুখ্যমন্ত্রী মহিলাকে তার বাসস্থান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’মহিলা বাচ্চাকে নিয়ে আমার কাছে এখানে এসেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছি, আর ফুটপাথে থাকার দরকার নেই, আমরা ব্যবস্থা করে দেব। পুরসভাকে বলেছি। ওরা ব্যবস্থা করবে। উনি মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা করেন, রাজ্য সরকারের উপর ভরসা করেন বলে জানিয়েছেন আমাদের।’
ইতিপূর্বে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর কুণাল ঘোষ মহিলার কাছে গিয়ে সমবেদনা দেখিয়ে এসেছেন। একই দিনে সিপিএমের সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ক্যাডারদের দেখা গেল পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাতবাসিনী সীতা ওরফে রশিদার সঙ্গে। সিপিএমের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বলা হয় যে এআইডিডবলু এ-এর ওই দলে ছিলেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কনিনীকা ঘোষ বোস, রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা সহ জেলা নেতৃত্ব। সীতা ওরফে রশিদার নাতনিদের কোলে তুলে নিয়ে আদর করার ছবি পোস্টও করা হয়। তবে দলের তরফে ওই ফুটপাত বাসিনীকে কোনো আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানানো হয়নি। এদিকে রশিদার নাতনিদের যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন মমতা ব্যানার্জিও। শেষ পর্যন্ত রশিদার কপাল ফিরলো সেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপেই। মুখ্যমন্ত্রী সিপিএম আর ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ওই মহিলা উনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। আমি জানিয়েছি, ফুটপাথ থাকার জায়গা নয়। মুখ্যমন্ত্রী, বিজেপি সরকার সকলের জন্য কাজ করে। বামপন্থী, যাঁরা কবিতা-ছড়া লিখছে তাঁদের বলব – ৫০ বছর তো ছিল, খোঁজ নেননি কেন?’
পাশাপাশি, এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন যে এই বিষয়ে স্মিতা পান্ডের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, ফুটপাত মানুষের থাকার বা স্থায়ীভাবে বসবাস করার জায়গা নয়, তাই সেখানে বেআইনিভাবে জবরদখল করে থাকা উচিত নয়। এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

















































