ভারত নিউজ ২৪*৭
দক্ষিণ দমদম পুরসভা ও বিধাননগর পুরনিগম এলাকায় আটকে থাকা নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। আগের পুরবোর্ডের অনুমোদিত নকশা যাঁদের রয়েছে, তাঁরা সেই নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে অনুমোদিত নকশায় কোনও রকম পরিবর্তন বা ‘ঘষা প্ল্যান’ করা যাবে না।
শনিবার এলাকার প্রোমোটারদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলির কথা জানান বিধায়ক। বৈঠকে নির্মাণকাজ, পুরনো অনুমোদিত নকশা, সিসি ও মিউটেশন এবং নতুন বহুতল প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার মতো একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি ঘিরে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।
পুরনো অনুমোদিত নকশায় কাজ চালানোর সুযোগ
বিধায়কের ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আগের পুরবোর্ডের অনুমোদিত নকশা থাকা নির্মাণ প্রকল্পগুলিকে কাজ চালানোর সুযোগ দেওয়া। তবে সেই পুরনো নকশাকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে নতুন করে অনুমোদন নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ ছাড় মিলবে না।
অর্থাৎ, যাঁদের বৈধভাবে আগের বোর্ডের অনুমোদিত নকশা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই অনুমোদনের ভিত্তিতেই কাজ এগোতে পারবে। কিন্তু নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বর্তমান নিয়ম ও প্রয়োজনীয় শর্ত মেনেই নকশা অনুমোদন করতে হবে। এই সিদ্ধান্তই কার্যত South Dum Dum Bidhannagar Building Rule নিয়ে এলাকায় চলা অনিশ্চয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট করল।
সেপ্টেম্বর থেকে সিসি ও মিউটেশন
বৈঠকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে সিসি বা কমপ্লিশন সার্টিফিকেট এবং মিউটেশন দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হবে। ইতিমধ্যেই যাঁরা সংশ্লিষ্ট বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও শর্তসাপেক্ষে সিসি ও মিউটেশন দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
নির্মাণ প্রকল্প আটকে থাকার কারণে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারাও সমস্যায় পড়ছিলেন বলে বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে। বিনিয়োগ আটকে থাকা এবং ক্রেতাদের সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বেআইনি বহুতলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ
অন্যদিকে, অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হওয়া বা আগের বোর্ডের অনুমোদনের আওতায় না থাকা বেআইনি নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ভেঙে ফেলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করার কথাও জানানো হয়েছে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট নির্মাণকে বেআইনি বলে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট নিয়ম, অনুমোদন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে—এমনটাই বক্তব্যের সারমর্ম।
অনলাইনেই নকশা অনুমোদনের আবেদন
সেপ্টেম্বর থেকেই নকশা অনুমোদন ও আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন করে বহুতল বা অন্য নির্মাণ প্রকল্পের জন্য building plan approval সংক্রান্ত আবেদন অনলাইনের মাধ্যমেই গ্রহণ করার ব্যবস্থা চালু হবে।
নতুন প্রকল্পে ভূমিজল, নিকাশি-সহ একাধিক পরিবেশগত ও পরিকাঠামোগত শর্ত মানা বাধ্যতামূলক হবে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করা এবং প্রয়োজন হলে নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
রাস্তার ধারে নির্মাণ সামগ্রী নিয়েও নির্দেশ
নির্মাণকাজের সময় রাস্তার ধারে ইমারতি সামগ্রী ফেলে রাখার বিষয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, রাস্তার পাশে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হলে ভোর ৫টার মধ্যে তা সরিয়ে নিতে হবে।
এলাকার বাসিন্দাদের অসুবিধা, রাস্তা ব্যবহারে সমস্যা এবং নির্মাণকাজকে ঘিরে স্থানীয় অভিযোগ কমাতেই এই নির্দেশ বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ জানাতে পুলিশ ও বিধায়কের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ
নির্মাণকাজে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি হলে পুলিশে অভিযোগ জানানো যাবে। পাশাপাশি পরিচয় প্রকাশ করতে সমস্যা থাকলে ‘কনফিডেনশিয়াল’ উল্লেখ করে বিধায়ককে বিষয়টি জানানো যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংযোগ-সহ পরিষেবা পেতে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠলে সেটিও গোপনে বিধায়ককে জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সিইএসসি এবং বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিধায়ক।
নির্মাণ বন্ধের পর অডিট
উল্লেখ্য, দক্ষিণ দমদম পুরসভা ও বিধাননগর পুরনিগম এলাকার একাধিক জায়গায় বেআইনি বহুতল নির্মাণ নিয়ে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নির্মাণের ফলে জনসংখ্যার চাপের পাশাপাশি নিকাশি, রাস্তা ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা নিয়েও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা ও অডিট শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই শনিবার প্রোমোটারদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্মাণ প্রকল্প সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্তের কথা জানালেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। এখন নজর সেপ্টেম্বরের দিকে—নতুন অনলাইন অনুমোদন ব্যবস্থা এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।
















































