ভারত নিউজ ২৪*৭
‘বীরভূমকে আমরা ঐতিহ্য-সংস্কৃতির বীরভূম করে তুলব, এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম বীরভূম সফরে গিয়ে শনিবার তারাপীঠের মা তারার মন্দিরে পুজো দিয়ে এমন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বার বীরভূমে গিয়ে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মাথায় পুজোর ডালা নিয়ে তারাপীঠ মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যার আগে তারাপীঠ মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। ষোড়শোপচারে পুজো দেন মুখ্যমন্ত্রী তিনি। ফুলের মালা পরিয়ে মা তারাকে পুষ্পাঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘি, মধু, গঙ্গাজল, দুধ দিয়ে হল বিশেষ পুজো। এদিন নির্দিষ্ট সময় তারাপীঠ মন্দির চত্বরে পৌঁছানোর পর মুখ্যমন্ত্রী মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢোকেন। সেখানে পুরোহিতদের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তিনি মা তারার চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন। গর্ভগৃহের ভেতরে গিয়ে তিনি নিজেই দেবী মাকে রক্তজবার মালা ও লাল বেনারসি সহ বিশেষ অর্ঘ্য নিবেদন করেন। এরপর মায়ের আরতিও করেন তিনি। পুজোর পর মন্দির চত্বরে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন এবং কুশল বিনিময় করেন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে সামনে থেকে একঝলক দেখতে এ দিন সকাল থেকেই তারাপীঠ মন্দির চত্বরে সাধারণ মানুষের ঢল নামে। ভিড় সামলাতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।
তারাপীঠের উন্নয়নে একগুচ্ছ ঘোষণা
এদিন তারাপীঠে পুজো দেওয়ার পর রামপুরহাটে প্রশাসনিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন তিনি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বা ২৩ ভাদ্র রয়েছে কৌশিকী অমাবস্যা। এদিন শুভেন্দু অধিকারী কৌশিকী অমাবস্যার তিথি পালন ও পুজো নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৌশিকী অমাবস্যাকে আরও বেশি রঙিন করে তুলতে অতিরিক্ত ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থ কোনও অভাব হবে না। সব দফতর কাজ করবে। হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি হবে। জেলা শাসককে বলেছি, এখানে খুব বড় একটা ট্যুরিস্ট লজ তৈরি করতে হবে। যাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার এখানে কম পয়সায় থাকতে পারে। পরিকল্পনা করবেন জেলা শাসক। তারপর তৈরি করা হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে পুরসভা, পঞ্চায়েত ও পিডব্লিউডি-র আওতায় থাকা সব রাস্তা সারাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিউড়ি মেডিক্যাল কলেজ-সহ দেউচা পাঁচামি ও রেলের একাধিক কাজের কথা নিয়ে আলোচনাও হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৫ কিমি পরপর বিশেষ অ্যাসিসট্যান্ট ক্যাম্প তৈরি করা হবে। সেখানে বাউলরা থাকবেন, পুলিশ বুথ থাকবে, মেডিক্যাল সহায়তা থাকবে- এই জায়গা নিয়ে আমরা ভালো ভাবে কাজ করব।’
দিন কয়েক আগে তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘এখানে যে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, তা যাতে আর না হয় সেদিকে নজর দেওয়া হবে। শুনে অবাক হলাম, হোটেলে রাতে তালা-চাবি লাগিয়ে রাখা হয়, যাতে অতিথিরা সকালে চলে যেতে না পারে…এটা তো যতুগৃহ বানিয়ে রাখা হয়েছে। এই অভ্যাসগুলো সব বদলে ফেলতে বলা হয়েছে।’
প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথম বীরভূম সফরে গিয়ে শনিবার বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার তথা প্রাক্তন তৃণমূল্য বিধায়ক প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী। প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি যে কোনও প্রয়োজনে তাঁকে জানানোর জন্য আশ্বাস দিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে দাবি করেছেন, পুলিশ অথবা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আশিসবাবুকে হয়রান করা হয়েছে বলে কোনও অভিযোগ করেননি তাঁর পরিবারের সদস্যরা৷
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওনারা আমাকে বলেছেন প্রশাসন বা বিজেপির কেউ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্যক্ত করেনি৷ ওঁরা নিজেরাই কারণ জানে না৷ রাজ্য সরকারের উপরে পরিবারের বিরাট কনফিডেন্স আছে৷ যিনি ওনাকে হারিয়েছিলেন সেই ধ্রুব সাহা সবার প্রথমে এসে ওনাকে প্রণাম করে যান৷ এখানকার বিজেপি কর্মীরা সভ্য- ভদ্র, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা খুবই সম্মান করতেন৷ ওনার দাদা, স্ত্রী, ছেলে সবাই বলেছেন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই৷ বাকিটা পুলিশ দেখছে৷’ পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দাদাকে তো ফিরিয়ে দিতে পারব না৷ বৌদিকে ফোন নম্বর দিয়ে এসেছি, বলেছি যে কোনও প্রয়োজনে জানাতে৷’ একই সঙ্গে এ দিন বীরভূমে দাঁড়িয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বীরভূমের দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরা জড়িয়ে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ বজায় রাখবে প্রশাসন৷
















































