নেশামুক্ত বাংলা গড়ার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, রোলার চালিয়ে ২ লক্ষ ফেনসিডিল ধ্বংস শুভেন্দু-সুকান্তর
ভারত নিউজ ২৪*৭
নেশা মুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্যে নিজেই রোড রোলার চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ও নেশাজাতীয় সিরাপ ধ্বংস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্টিয়ারিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলালেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, দক্ষিণ দিনাজপুরে গত কয়েক মাসে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে বিএসএফের সমন্বয় বাড়িয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই অভিযানের ফলেই বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া এই বিপুল নিষিদ্ধ সিরাপ বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে সীমান্ত পেরনোর আগেই পুলিশের অভিযানে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।’ জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নেশামুক্ত বাংলা গড়ার ডাকও দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্যের কোথাও মাদক উদ্ধার হলে তা ধ্বংস করা হবে। পাশাপাশি এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। মাদক ব্যবসায় জড়িতদের দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
২০২৯ সালের মধ্যে ‘নেশামুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তরুণ প্রজন্মকে নেশা থেকে দূরে থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। বলেছেন, ‘ক্ষণিকের নেশা গোটা জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’ এ বার তরুণদের উদ্দেশে নেশামুক্তির ডাক দিলেন শুভেন্দুও। নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের উপর রোলার চালানোর পরে বললেন, ‘আমার কর্মসূচির প্রথম বার্তা হল— যুবসমাজকে নেশা থেকে বের করে আনতে হবে।’ রোড রোলার দিয়ে নেশাদ্রব্য দুরমুশ করার ঘটনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। অতীতে গুজরাত বা বিহারে রোলার দিয়ে মদের বোতল দুরমুশ করতে দেখা গিয়েছে। গত জুলাইয়ে অসমেও রোড রোলার দিয়ে নেশার দ্রব্য দুরমুশ করেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এ বার সেই একই পথে হাঁটলেন পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রীও। বুধবার দুপুর ৩টে নাগাদ বালুরঘাটে পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে রোড রোলারে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী এবং সুকান্ত। দু’জনেরই মাথায় ছিল হেলমেট। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও ছিলেন সেখানে। তবে তিনি রোলারে ওঠেননি। সাজিয়ে রাখা কাশির সিরাপের বোতলগুলির একটি অংশের উপর দিয়ে রোড রোলার চালান শুভেন্দু। পরে নেমে এসে বলেন, ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। সরকারের আসার পরে আমরা ব্যাপক পরিমাণে নেশাদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করেছি।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই চার মাস বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথ অভিযানে এই নেশাদ্রব্যগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে। আমরা প্রতীকী ভাবে এগুলি ধ্বংস করলাম। পশ্চিমবঙ্গকেও আমরা নেশামুক্ত করব— এটাই বার্তা।’ বাজেয়াপ্ত হওয়া এই নেশার দ্রব্যগুলি বাংলাদেশেই পাচার করার লক্ষ্য ছিল বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। নিষিদ্ধ কাশির সিরাপের কারবারে জড়িতদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘যারা এ সব কারবারে যুক্ত থাকবে, তাদের বছরের পর বছর জেলে থাকতে হবে।’
বালুরঘাটে জোড়া উপহার মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় প্রথম প্রশাসনিক সফরে গিয়ে বালুরঘাটবাসীকে জোড়া উপহার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও সংস্কারহীন অবস্থায় থাকা বালুরঘাট বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক উড়ানের উপযোগী করে দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। অন্যদিকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই দক্ষিণ দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজের প্রাথমিক পরিকাঠামো গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি জমিতে দক্ষিণ দিনাজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থানান্তরের রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে যে, দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা উত্তরবঙ্গের এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রকল্পগুলি এবার দ্রুত বাস্তবায়িত হতে চলেছে। বিমান পরিষেবা চালু হলে দক্ষিণ দিনাজপুরের সঙ্গে কলকাতার দূরত্বের ব্যবধান যেমন কমবে, তেমনই নিজস্ব মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হলে জেলাবাসীকে আর চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ বা কলকাতায় ছুটতে হবে না।















































