ভারত নিউজ ২৪*৭
ভুয়ো বিজ্ঞাপন দেখিয়ে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নামে অগ্রিম টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা মিলছে না। নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ মানুষ! এ ছাড়াও বাজারে সবজি কেনা থেকে অনলাইনে খাবার কেনার নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। আগের সরকার ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরকে গুরুত্ব দেয়নি। এমন বিস্ফোরক অভিযোগ করে এবারে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতারণা ঠেকানোর পাশাপাশি প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ। হগ মার্কেট চত্বরে এই কর্মসূচির সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি সাফ জানিয়েছেন, ফ্ল্যাটের নামে জালিয়াতি, সবজি-মাছে ক্ষতিকর রঙের প্রয়োগ। সামগ্রীর মাপে কারচুপি। এই দুর্নীতি নিয়ে সরকার কোনও বেনিয়ম মেনে নেবে না। জিরো টলারেন্স নীতিতে চলবে সরকার।
সোমবারের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বিগত সিপিএম এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৬ সালের পর থেকে বিধায়ক হওয়ার পর থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা পরবর্তী কাউকে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের কর্মসূচিতে দেখিনি। এই দপ্তরটি চরম অবহেলিত। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এই দপ্তরের সরাসরি যোগ রয়েছে। মঙ্গলবার উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে আনাজ, চিনির দাম বাড়িয়ে দিল। আমরা জানি, গোটা দেশেই রিটেলে দাম বেড়েছে। অ্যাকশন হওয়ার পর দেখবেন কয়েক টাকা কমেও গিয়েছে। কিন্তু চালে তো বাড়ানোর কারণ ছিল না। আমরা ধান উৎপাদনে উদ্বৃত্ত। এই ব্যবস্থাগুলো আগে ছিল না।’ এখানেই শেষ না করে তাঁর দাবি, খাবারে ও মিষ্টিতে মেশানো হচ্ছে রং। সেই রং শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তিনি বলেন, ‘নামী নামী হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বড় বড় মিষ্টির দোকানে যে রং মেশানো হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা করুন পরিচ্ছন্নভাবে। মানুষের ক্ষতি করতে পারেন না।’
প্রেসিডেন্সি জেলে সারপ্রাইজ ভিজিট
মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আফতাব আনসারির সেল থেকে আইফোন-সহ একাধিক স্মার্ট ফোন, রাউটার, যোগাযোগের একাধিক ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র উদ্ধার নিয়ে রাজ্য জুড়ে যখন তোলবার শুরু হয়েছে সেই সময় আচমকাই মঙ্গলবার প্রেসিডেন্সি জেলে সারপ্রাইজ ভিজিট করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংশোধনাগারে ঋষি অরবিন্দের আবক্ষ মূর্তিতে প্রণাম করে ঘুরে দেখেন ঋষি অরবিন্দ সেল, যে সেলে অরবিন্দ বন্দি ছিলেন। এর পর সংশোধনাগারের একটি ওয়ার্ডের বাইরে থেকে বন্দিদের সঙ্গেও কথা বলেন। তাঁদের সুবিধা- অসুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। ঘুরে দেখেন জেলের ভিতরে বন্দিদের কর্মশালা, যেখানে বন্দিরা জামাকাপড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন জিনিস বানান। জেলের ভিতরে থাকা মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু।
সংবাদ মাধ্যমের জন্য গাইডলাইন
ধর্মীয় আস্থায় আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে ভাষা ও শব্দ নির্বাচন নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এমন কিছু ভাষা বা শব্দ প্রয়োগ করবেন না, যাতে কোনও ধর্মীয় আস্থায় আঘাত পড়ে।’ পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমের কী কী করণীয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘এমন কিছু ভাষা বা শব্দ প্রয়োগ করব না, যাতে কোনও ধর্মীয় আস্থায় আঘাত পড়ে। এটা আমাদের সকলকে দেখতে হবে। ধর্মীয় আস্থায় আঘাত পড়ে এমন কিছু সরকারও যেমন করবে না। তেমনি আপনারাও করবেন না। আমার এই চারমাস সময়কালে অনেকগুলো ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা এগুলো আমরা সরকারের পক্ষ থেকে বেঁধে দিয়েছি। কিন্তু, ধর্মীয় আস্থা পালনের ক্ষেত্রে কাউকে বাঁধা দিয়েছি, এমন কোনও উদাহরণ কোনও সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে কোনও সংবাদমাধ্যম পাবেন না। তাই আপনাদেরও আমি অনুরোধ করব দেশপ্রেম ও ধর্মীয় আস্থার ক্ষেত্রে এমন কোনও শব্দ বা বাক্য প্রয়োগ করা উচিত নয়, যাতে দেশ দুর্বল হবে, এবং ধর্মীয় আস্থায় আঘাত আনবে। রাষ্ট্রের প্রশ্নে, দেশপ্রেমের প্রশ্নে আপনারা সবাই কঠোর নীতি নিয়ে চলবেন। কারণ আমরা সবাই মনে করি নেশন ফার্স্ট। স্বাধীনতা সংগ্রামে পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা আমরা সকলেই জানি। দেশ দুর্বল হোক, দেশে অস্থিরতা তৈরি হোক, এমন কোনও কাজ আমরা করব না। এটুকু আমরা আপনাদের কাছ থেকে আশা করব।’
প্রসঙ্গত মঙ্গলবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী দুটি প্রকল্পের ঘোষণা করেন সাংবাদিকদের জন্য। একটি অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য পেনশনের পরিমাণ বিগত সরকারের আমলের আড়াই হাজার টাকার পরিবর্তে করলেন পাঁচ হাজার টাকা এবং বর্তমানে কর্মরত সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনার আওতায় নিয়ে আসার কথা ঘোষণা করলেন।
অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘বিগত সরকার যাঁরা অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক, তাঁদের মাসে আড়াই হাজার করে পেনশন দেওয়া হত। ১৫০ জন বা ১৫৪ জন মতো পেতেন। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছিল ৫ হাজার করব। আমরা সেটা করেছি।’ মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় যে সাংবাদিকরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, মঙ্গলবার নবান্ন থেকে তাঁদের হাতে কার্ড তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, ‘বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারত এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় রাজ্যের ১৯০০ হাসপাতালে আপনারা চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। দেশে ৩৮ হাজার হাসপাতালে এই সুযোগ পাবেন। এটি একটি বাড়তি সুযোগ। আয়ুষ্মান ভারতে যাঁরা নথিভুক্ত আছেন, তাঁদের আলাদা করে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য যোজনার কার্ড নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আয়ুষ্মান ভারতে যুক্ত হতে না পারলে, তাঁদের আমরা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা কার্ডে যুক্ত করলাম বিশেষ করে আমাদের সাংবাদিক বন্ধুদের। তাঁর সূচনা আজ এখানে হল। সিম্বলিক কয়েকটা কার্ড দিলাম বাকিটা যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁরা পেয়ে গিয়েছেন, বাকি যাঁরা আবেদন করবেন তাঁরা পেয়ে যাবেন। সরকারি অধিকারিকরা আপনাদের সহযোগিতা করবে। এর জন্য মন্ত্রী বা রাজনৈতিক বক্তব্যের কোনও প্রয়োজন হবে না।’
বিপর্যয় মোকাবিলায় অর্জুন বাহিনী
তারাতলায় গোডাউন ভেঙ্গে পড়ার ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন অগ্নিবীরদের নিয়ে রাজ্য সরকার তৈরি করবে বিশেষ অর্জুন বাহিনী। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সেই অর্জুন বাহিনীর পথচলা শুরু করলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নবগঠিত এই অর্জুন বাহিনীতে থাকছে ২০০ সদস্য। কলকাতার জন্য ১০০। পাহাড়ে ৫০ এবং সুন্দরবন এলাকায় ৫০। এই বিন্যাসে বাহিনী কাজ করবে দুর্যোগ মোকাবিলায়। সাম্মানিক স্বরূপ বাহিনী প্রধান ‘বীর নায়ক’কে দেওয়া হবে মাসিক ৪০ হাজার। এবং সদস্য অর্থাৎ ‘বীর’ দের দেওয়া হবে ২৫ হাজার। বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বাড়বে বেতন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিপদ সংকুল এলাকায় কাজ করবে এই বাহিনী। তাই গুরুতর আঘাত বা প্রাণহানিতে ১০ লক্ষ এবং অক্ষমতায় ৫ লাখ টাকা সুবিধা পাবেন। মূলত অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান তথা অগ্নিবীরদের নিয়ে তৈরি হবে অর্জুন বাহিনী। ভবিষ্যতে এনডিআরএফের কায়দায় আড়েবহরে এবং প্রযুক্তিতে এই বাহিনীকে সাজিয়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।















































