পঞ্চায়েতে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ, তবু কাজ হয়নি! বিস্ফোরক অভিযোগ পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের
ভারত নিউজ ২৪*৭
তৃণমূল সরকারের জমানায় শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়ে কাজ হয়নি। এমনকী কোটি কোটি টাকা দিলেও কাজ হয়নি। তাই শহর অপরিষ্কার থাকত। এবার সেই কাজ খুব ভাল করে করা হচ্ছে। তার জন্য কিছু কড়া পদক্ষেপ করতে হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে এসে রাজ্য সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। মঙ্গলবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এভাবেই তৃণমূল জমানাকে তোপ দাগলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মঙ্গলবার থেকে রাস্তায় থুতু ফেলা, আবর্জনা ফেলা থেকে শুরু করে বেআইনি পার্কিং করা যাবে না। এমনই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এই নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই নাগরিকদের সচেতন করতে সে কথা বলে আসছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য।
এই বিষয়ে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘শহর পরিষ্কার রাখাটা আমাদের দায়িত্ব। এতে আমাদের রাজ্যের ইমেজ তৈরি হয়। এই ধরনের পদক্ষেপ আরও অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। ইন্দোর দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন শহর। সেখানে কেমন করে বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সেটা থেকে গ্যাস ও সার তৈরি করা হয় সেই ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতেই সফর করা হবে।’
রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী তৃণমূল জমানাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও দেশের মধ্যে কলকাতা নিরাপদ শহর এবং পরিচ্ছন্ন শহরের তকমাও পেয়েছিল। যদিও সব কাজ যে হয়নি সেটাও ঠিক। আরও কাজ করার ছিল। তাই শহরকে পরিষ্কার রাখতে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘সাধারণ মানুষকে সচেতন করার সঙ্গে সঙ্গে শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে। নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সহযোগিতা করতে হবে। রাজ্য সরকার যে পদক্ষেপ করেছে সেটা সাধারণ মানুষকে তার সঙ্গে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে পরিচ্ছন্নতা এবং সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়েও গত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে। প্রত্যেকটি পঞ্চায়েতকে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য কোটি কোটি টাকা দেওয়া হলেও বহু জায়গায় সেই প্রকল্প সফল হয়নি। কাজও হয়নি।’
বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্যের পুরমন্ত্রীকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে দেখা যাচ্ছিল। বাজার এলাকা থেকে শুরু করে ফুটপাত ঘুরে বেরিয়েছেন তিনি। মানুষকে সচেতন করেছেন। এবার নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।
গোটা বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষের দাবি, ‘নজরদারির অভাবেই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। কেউ দেখাশোনা করার নেই, কেউ খোঁজখবর নেয় না। জেলায় জেলায় ঘুরে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কোথাও বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার কোথাও টাকা খরচ হলেও প্ল্যান্ট চালুই হয়নি। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য কেনা ই-ভেহিকেলও নানা জায়গায় পড়ে আছে এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলির ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। নোংরা আবর্জনা নিয়ে এসে নানাভাবে ভাগ করা এবং সাত-আটটা ভাগে ফেলা এবং তার প্রসেসিং সবটাই শুরু হবে। তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।’















































