‘আজ থেকে রাস্তায় থুতু ফেললে, প্রস্রাব করলে বা নোংরা ছড়ালেই জরিমানা’, পরিচ্ছন্ন শহরের লক্ষ্যে বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার
ভারত নিউজ ২৪*৭
রাজ্য সরকার আগে থেকেই ঘোষণা করে দিয়েছিল। সেই মতো মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন করে চালু হল নিয়মাবলী। শহরের রাস্তাঘাটে যত্রতত্র থুতু ফেললে দিতে হবে জরিমানা। রাস্তায় আবর্জনা ফেললে, প্রকাশ্যে মল-মূত্রত্যাগ করলেও জরিমানা দিতে হবে।
রাস্তাঘাটে থুতু কিংবা আবর্জনা ফেলা রুখতে কড়াকড়ি আগেও ছিল। জরিমানার বিধানও ছিল। তবে তা সঠিক ভাবে কার্যকর হত না বলে বার বার অভিযোগ উঠেছে অতীতে। এ অবস্থায় রাজ্যে পালাবদলের পর শহরগুলিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ফের উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে রাস্তাঘাটে থুতু ফেলে ধরা পড়লে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। রাস্তায় বা জনসমক্ষে কোথাও বেআইনি ভাবে আবর্জনা ফেললে বা নোংরা ছড়ালে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে। প্রকাশ্যে মল-মূত্রত্যাগ করতে গিয়ে ধরা পড়লে দিতে হবে ২০০ টাকা জরিমানা। এক বার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগ (১২৫ মাইক্রনের নীচের প্লাস্টিক) ব্যবহার করলেও ২০০ টাকা জরিমানা হবে। মঙ্গলবার থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
তবে এই নতুন ব্যবস্থাকে ‘কড়াকড়ির’ তুলনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে দেখাই শ্রেয় বলে মনে করছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে পুরমন্ত্রী বলেন, ‘জরিমানা করে টাকা তোলার কড়াকড়ির চেয়ে মানুষকে সচেতন করাটাই আমাদের উদ্দেশ্য। জরিমানা করে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাই কলকাতা-সহ আমাদের রাজ্যের বিভিন্ন শহর সুন্দর হোক।’ মন্ত্রীর কথায়, যে জরিমানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে তা ‘নামমাত্র জরিমানা’। তিনি বলেন, ‘একা সরকারের পক্ষে শহরকে পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। বিষয়টি সাধারণ মানুষের মন থেকে না এলে, চাবুক চালিয়ে, লাঠি চালিয়ে, জরিমানা করে এটা সম্ভব নয়।’ শহরগুলিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
এদিন পুরমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন এলাকায় ডাস্টবিন দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। বিশেষ করে বাজার-হাটে, রেল স্টেশনের কাছে ডাস্টবিন রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আমরা এখনও ঠিক প্রস্তুত নই। আমরা ডাস্টবিন দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। আমরা জায়গায় জায়গায় শৌচালয় বানানোর নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে যেমন জরিমানা শুরু হচ্ছে, তেমন আমাদের যে কাজ— ডাস্টবিন দেওয়া, শৌচালয় বানানো, তা-ও চলছে।’ যাঁরা প্লাস্টিকের সামগ্রী বানান, তাঁদেরও নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের বদলে অন্য প্লাস্টিক ব্যবহারের জন্য বলছে প্রশাসন।
বাজার এলাকাগুলিতে ব্যাগের জন্য ভেন্ডিং মেশিনও বসানোর ব্যবস্থা করছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। তবে রাজ্যের সর্বস্তরে তা চালু হতে সময় লাগবে, সে কথাও মেনে নিয়েছেন পুরমন্ত্রী। অগ্নিমিত্রা জানান, দু’ধরনের ভেন্ডিং মেশিন দিচ্ছে সরকার। এক ধরনের ভেন্ডিং মেশিন দিয়ে ভুট্টার দানা দিয়ে তৈরি ব্যাগ পাওয়া যাবে। সেগুলির দাম ১ টাকা করে। আর এক ধরনের ভেন্ডিং মেশিন দিয়ে পাওয়া যাবে কাপড়ের ব্যাগ। তার দাম ৫-১০ টাকা।
প্রকাশ্যে থুতু ফেললে আগে থেকেই রাজ্যে জরিমানার ব্যবস্থা ছিল। ২০১৯ সালের সংশোধিত পুরআইন অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার জরিমানার বিধান ছিল। কলকাতায় বেআইনি ভাবে বর্জ্য ফেললেও ৫০-৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান ছিল। তবে এগুলি সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে আগেও অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নতুন করে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। তবে প্রস্তুতি যে সব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নেই, সে কথাও একপ্রকার মেনে নিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। ফলে নতুন করে জরিমানার বিধান চালু হওয়ার পর তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবে রাজ্য সরকার।















































