Bengal Housing Policy : সরকারি ফ্ল্যাট বা জমির ক্ষেত্রে আর লিজ নয়, এবার থেকে সম্পূর্ণ মালিকানা বা ফ্রি-হোল্ড সত্ত্ব দেবে সরকার, নিউ টাউন সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হবে সাশ্রয়ী আবাসন
ভারত নিউজ ২৪*৭
সরকারি ফ্ল্যাট বা জমির ক্ষেত্রে আর লিজ নয়, এবার থেকে সম্পূর্ণ মালিকানা বা ফ্রি-হোল্ড সত্ত্ব পাবেন সাধারণ মানুষ। নিউ টাউন সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হবে সাশ্রয়ী আবাসন। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবার এমনই একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের আবাসন দফতর। আজ রাজ্যের আবাসন মন্ত্রী দীপক বর্মন এই বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আবাসন দফতরের কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দফতরের প্রধান সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বিশেষ সচিব শঙ্কর পাল, আবাসন কমিশনার -সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে আইনি ও পদ্ধতিগত জটিলতায় ভুগছিলেন বহু মানুষ। লটারিতে ফ্ল্যাট পেলেও তা লিজ হিসেবেই থাকত। এবার সেই সমস্যার পাকাপাকি সমাধান হতে চলেছে। মন্ত্রী দীপক বর্মন স্পষ্ট বলেন, এখন থেকে আবাসন দফতর আর লিজ দেবে না। একদম পরিষ্কার, আমরা তাদের ফ্রি-হোল্ড দেব। এর ফলে পুরনো ও নতুন, সব ক্রেতাই উপকৃত হবেন।
এবার থেকে সরকারি উদ্যোগে আবাসন বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে দফতর একটি নতুন ডিজিটাল পোর্টাল চালু করতে চলেছে। নতুন এই পোর্টালে ফ্ল্যাটের জন্য আবেদন থেকে শুরু করে অভিযোগ জানানো এবং শুনানির দিনক্ষণ—সব কিছুই এক জায়গায়, বাড়িতে বসে জানতে পারবেন সাধারণ মানুষ। সরকারি আবাসনে অবিক্রিত ফ্ল্যাট বিলি নিয়েও নয়া নীতি ঘোষণা করে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিভিন্ন আবাসনে প্রায় 359 অবিক্রিত ফ্ল্যাট পড়ে রয়েছে। এতদিন নিয়ম ছিল, একবার ফ্ল্যাট পেলে দ্বিতীয়বার আবেদন করা যেত না। সেই নিয়মে বদল আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এই ফ্ল্যাটগুলি বিক্রির ক্ষেত্রে ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ বা আগে আসলে আগে পাবেন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ফ্ল্যাটগুলি যাতে দ্রুত সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। তবে নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি রাজ্যের আবাসন নীতিতেও একগুচ্ছ পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন, জয়েন্ট ভেঞ্চারে তৈরি আবাসনে বাধ্যতামূলকভাবে 50 শতাংশ নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য রাখতে হবে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য প্রতি বর্গফুট কার্পেট এরিয়ার ন্যূনতম দাম ধরা হয়েছে 4500 টাকা। এমআইজি ক্যাটেগোরির ক্ষেত্রে এই দাম 5100 থেকে 5500 টাকা। এলআইজি ফ্ল্যাটের আবেদনের জন্য মাসিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা 40 হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আগামী দিনে কলকাতা শিলিগুড়ি সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্বল্প খরচে আবাসন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়িতে 7 একর জমিতে প্লট তৈরি করে দেওয়া হবে। আগামী 10 মাসের মধ্যে এর টাইমলাইন ধরা হয়েছে। শিলিগুড়িতে হিমালয় কন্যা আবাসনের জি প্লাস সেভেন ভবনের কাজ শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি, কলকাতার ঠাকুরপুকুরে 22 একর জমির উপর একটি মেগা হাউজিং প্রজেক্ট তৈরি হচ্ছে। 2028 সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া 1-এ 12টি প্লটে 48টি ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে, যা 2028 সালের মার্চে হস্তান্তর করা হবে। অ্যাকশন এরিয়া 2-এ সাড়ে 9 একর জমির ওপর বন্ধ হয়ে থাকা সানরে প্রকল্পটির কাজ নতুন করে শুরু করা হচ্ছে। সেখানেও তৈরি হবে প্রায় 500 ফ্ল্যাট।













































