Mamata vs BJP: ‘মধ্যরাতে আমাদের দফতরে গুন্ডা পাঠিয়েছে বিজেপি’, থানার ভূমিকা নোট করার হুঁশিয়ারি মমতার
ভারত নিউজ ২৪*৭
‘আমাদের দফতরে মধ্যরাতে গুন্ডা পাঠিয়েছে বিজেপি। কাগজপত্র, দলিল, রেকর্ড সব তছনছ করা হয়েছে। আমাদের চার জনকে ভিতরে আটকে রাখা হয়েছিল, অনেক অত্যাচার করা হয়েছে। নাকের ডগায় শেক্সপিয়র সরণি থানা। ওই থানা-সহ একাধিক থানার ভূমিকা আমরা নোট করে রাখছি। চিরকাল বিজেপি থাকবে না।’ বৃহস্পতিবার বিকেলে এভাবেই ফেসবুক লাইভে এসে হুঙ্কার দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘খাস কলকাতার বুকে যাঁরা মধ্যরাতে বর্বরতা চালাচ্ছে, তারা গ্রামবাংলায় কী করছে, ভাবা দরকার।’ বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পুলিশ রক্ষক থেকে ভক্ষক হয়ে উঠেছে, অভিযোগ মমতার।
তিনি জানান, যে সমস্ত অফিসার পুলিশের উর্দিকে সম্মান করে রক্ষক হিসেবে কাজ করেন, তাঁদের তিনিও শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু সাক্ষ্যপ্রমাণ লোপাট করে, সাক্ষীকে গুলি করে কেউ কেউ ‘ভক্ষক’ হয়ে উঠেছেন। তাঁদের জন্য কোনও সম্মান নেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। এ প্রসঙ্গে বারুইপুরের গণধর্ষণকাণ্ড এবং অভিযুক্তের এনকাউন্টারে পুলিশের ভূমিকার কথাও মমতা উল্লেখ করেছেন।
বিজেপির নানাবিধ ‘অত্যাচার’-এর কথা বলে দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘দরকার হলে দিল্লি পর্যন্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন করব। কত দিন আটকাবেন? কত দিন অত্যাচার চলবে? অত্যাচার বন্ধ না হলে আমি দিল্লি যাব এবং সেখানে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসব। এখানে হকারেরা কাঁদছেন, দোকান ভাঙা হচ্ছে কোনও বিকল্প ছা়ড়াই। মধ্যরাতে অপারেশন চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সেটা। না হলে মানুষ ললিপপ ধরিয়ে দেবে।’ বিরোধী স্বরকে বেশি দিনের জন্য দমিয়ে রাখা যাবে না, মনে করেন মমতা। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনও নিরাপত্তাই পান না রাজ্য সরকারের কাছ থেকে। এ বিষয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘কোথায় জ়েড প্লাস? এখানে একটাও সিকিউরিটি নেই। মিথ্যা কথা বলবেন না। সব নিরাপত্তা তুলে নিয়েছেন প্রথম দিন থেকেই। এখন ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমার চাই না আপনাদের নিরাপত্তা।’ বিজেপির আচরণে এ রাজ্যে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একাংশই বিরক্ত, মনে করেন মমতা। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘শুধু দুষ্কৃতীদের রক্ষা করতে সিআরপিএফ পাঠিয়ে আপনারা বিজেপি-র পরিকাঠামোই নষ্ট করছেন। দলের আসল কর্মীদের হারাচ্ছেন। পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে আপনাদের। দলের পরিস্থিতি আপনারা জানেন না।’
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূলের কালীঘাট শিবির। একের পর এক এফআইআর হয়েছে নেতাদের বিরুদ্ধে। মমতা সে প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমাদের চার হাজারের বেশি পার্টি অফিস দখল করা হয়েছে। আমাদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। রোজ এফআইআর হচ্ছে। এফআইআরে তো বিশ্ব রেকর্ড হয়ে গিয়েছে। আপনারা এফআইআর করতে করতে হাঁপিয়ে যাবেন। আমাদের থামাতে পারবেন না।’














































