Suvendu Tributes Uttam Kumar: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর
ভারত নিউজ ২৪*৭
মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ বলে কথা। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রথম কুমারের প্রথম জন্মদিন উপলক্ষে টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্য দান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন শুভেন্দু অধিকারী। মহানায়কের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে টালিগঞ্জের বিভিন্ন স্টুডিওতে। তাই শতবর্ষ উপলক্ষ্যে টালিগঞ্জেই আয়োজন করা হয়েছিল একটি ছোট অনুষ্ঠানের। সেখানে সকলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাও।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যুজুড়ে উত্তমকুমার নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। উত্তম মঞ্চকে ঢেলে সাজানো থেকে পদযাত্রা, বছরজুড়ে অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার করেন। এদিন প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর মাল্যদানের কথা থাকলেও তিনি রঞ্জিত মল্লিককে জায়গা করে দেন এবং ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ অভিনেতা হওয়ার সুবাদে প্রথমে মাল্যদান করার আবেদন করেন। সেই মতো প্রথমে নিজের সহকর্মী, বাংলার মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান রঞ্জিত মল্লিক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক, রত্না ঘোষাল, প্রবীন পরিচালক গৌতম ঘোষ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, দেব, জিৎ-সহ অন্যান্যরা। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের সঙ্গে যুক্ত বর্তমানের বিধায়করাও।
উত্তমকুমারের জন্ম শতবর্ষে বাংলায় পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় মহানায়ককে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও। উত্তমকুমারকে সাংস্কৃতিক আইকন বলে চিহ্নিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘আজ মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী। তিনি ছিলেন এক অনন্যসাধারণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর অতুলনীয় অভিনয়দক্ষতা, কালজয়ী আকর্ষণ ও অনায়াস পর্দায় উপস্থিতি চলচ্চিত্র মাধ্যমকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিল। উত্তম কুমার এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করেছিলেন যা আজ পর্যন্ত প্রতিটি প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। অজস্র অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সাবলীলভাবে জীবনের মূল নির্যাস ফুটিয়ে তুলেছিলেন। রূপােলি পর্দায় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখে কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনি চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন উত্তম কুমার। এই চিরসবুজ ‘ম্যাটিনি আইডল’-এর কালজয়ী স্মৃতি ও অবদান পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র বিশ্বের সাংস্কৃতিক আঙিনাকে চিরকাল আলোকিত করে রাখবে। এই ঐতিহাসিক জন্মশতবর্ষে মহানায়কের প্রতি আমার গভীরতম শ্রদ্ধা ও প্রণাম।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মহানায়ককে নিয়ে তাঁর আবেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিনি মহানায়ককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন।’ গত রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী মহানায়ককে নিয়ে পাঁচ মিনিট বক্তব্য রাখেন বলে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন।
মহানায়কের শতবর্ষ উদযাপনে রাজ্য সরকার বছরভর নানা কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের 125তম জন্মজয়ন্তীর মতোই মহানায়কের শতবর্ষকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, উত্তম কুমারের নামাঙ্কিত সমস্ত প্রতিষ্ঠান সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হবে। আগামিকাল সকাল 11টায় মহানায়কের নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের ভূমিপূজন হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, ভারত সরকার শতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ কয়েন এবং ডাকটিকিট প্রকাশ করছে। অনুষ্ঠানগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার যে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করেনি, তা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছেড়ে দিয়েছিলাম এই শিল্পী কলাকুশলী এবং যারা উত্তম কুমারকে নিয়ে ভাবেন চিন্তা করেন তাদের উপরে।’
আগের সরকারের নীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কথাও এদিন উঠে আসে। আগে প্রয়াণ দিবসটিকে উৎসব হিসেবে পালন করা হত। সেই প্রথা বদলানোর কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঠিক করেছি বিগত সরকার প্রয়াণ দিবসটাকে উৎসব দিবস করত আমরা ঠিক করেছি প্রয়াণ দিবসে স্মরণ করব শ্রদ্ধাঞ্জলি দেব আর জন্মদিনটাকে উৎসবের মতো পালন করব যেটা হওয়া উচিত।’














































