Suvendu West Bengal Tourism : পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনের হারানো গৌরব ফেরাতে দফতরের নতুন লোগো উদ্বোধন শুভেন্দুর
ভারত নিউজ ২৪*৭
ফিরিয়ে আনতে হবে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের হারানো গৌরব। একসময় দেশ তথা বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ৷ সময়ের সঙ্গে সেই আকর্ষণ অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ রাজ্যের পর্যটনের সেই হারানো গৌরব ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ শুক্রবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পর্যটন দফতরের নতুন লোগো উদ্বোধন ও পরিচিতি অনুষ্ঠান থেকে এই ঘোষণা করেন শুভেন্দু৷ সেই লক্ষ্যে পর্যটনকে ঢেলে সাজাতে প্রায় 500 কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন তিনি। এই পরিস্থিতি বদলাতেই রাজ্য সরকার তৎপর বলে দাবি করেন শুভেন্দু। পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সেক্টরে আমরা এবারে প্রায় 500 কোটির বাজেট দিয়েছি এবং লোকবল যাতে বাড়ানো যায়, তার ব্যবস্থাও করছি।’ রাজ্যের সমস্ত ট্যুরিস্ট লজ সংস্কার হবে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, রাজ্যে পর্যটনের বর্তমান অবস্থার কথা উঠে আসে৷ তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ একটা সময় ‘ডেস্টিনেশন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ ছিল৷ ক্রমে ক্রমে পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃতি আমরা ধ্বংস করেছি, পশ্চিমবঙ্গের প্রাণী সম্পদ আমরা ধ্বংস করেছি, পশ্চিমবঙ্গে আমরা পর্যটন কেন্দ্রিক পরিকাঠামো নষ্ট করেছি৷ তার ফলে অন্যান্য রাজ্যগুলো অনেকটাই এগিয়ে গেছে৷’ তাঁর আক্ষেপ, দার্জিলিং, কালিম্পং বা কার্শিয়াংয়ের উপর দিয়ে পর্যটকরা যাতায়াত করলেও, তাঁরা মূলত গ্যাংটকে চলে যাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে গঙ্গার বুকে ‘ওয়াটার মেট্রো’ চালুর কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী ৷
তিনি বলেন, ‘রেলমন্ত্রীর উপস্থিতিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেরলের রাজধানীর পর কলকাতা দেশের 17তম শহর হিসেবে ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিষেবা পেতে চলেছে। পাশাপাশি, বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য নতুন 11টি বোট নামানো হচ্ছে, যা বিপর্যয় মোকাবিলা এবং পর্যটন—উভয় কাজেই লাগবে৷ সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফেরাতে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের সাহায্যে 20 লক্ষ ম্যানগ্রোভের চারা রোপণ করা হবে৷’ ‘ডেস্টিনেশন সুন্দরবন’ নামে একটি নতুন কর্মসূচিও নিচ্ছে রাজ্য সরকার। পর্যটকদের আকর্ষণের জন্য পরিকাঠামো এবং সুবিধা বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
আগামী 2 অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে বক্সায় বাঘ ছাড়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ শিশুদের জন্য পার্ক এবং পর্যটকদের জন্য গেস্ট হাউসগুলিতে হাঁটার পথ তৈরির কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, ‘আমরা আড্ডাপ্রিয় বাঙালি৷ তাই পর্যটকরা ওখানে বসে চা খেতে পারবেন, গল্প করতে পারবেন, সূর্যোদয় দেখতে পারবেন৷’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী-সহ বিভিন্ন কনসুলেটের আধিকারিকরা।
বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে
শুক্রবার রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘ডিভিসি ভাল কাজ করছে। একটিও বাঁধ ভাঙেনি। অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরেই জলাধার বাঁচাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ জল ছাড়তে হয়েছে। লোয়ার দামোদর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হুগলি, হাওড়া ও মালদার কিছু এলাকায় জল জমা ও ভাঙনের জেরে মানুষ প্রভাবিত হয়েছেন। তাঁদের জন্য ত্রাণ, উদ্ধার এবং আশ্রয়ের সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
শুভেন্দুর বক্তব্য, গত দু’দিনে ডিভিসি এক লক্ষেরও বেশি পরিমাণ জল ছাড়তে শুরু করায় হুগলি গ্রামীণ এলাকায় তার প্রভাব পড়েছে। আরামবাগ মহকুমার সাতটি ব্লক এবং ন’টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা প্রভাবিত হয়েছে। খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া এবং গোঘাটে পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ও আমতার কিছু এলাকাতেও জল ঢুকেছে। তবে বড় কোনও বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, বাঁধের ধারণক্ষমতার বাইরে জল চলে গেলে জল ছাড়তেই হবে। জানান, ২০-৩০ হাজার বা ৪০-৫০ হাজার পরিমাণ জল ছাড়ার সময় কোনও বড় প্রভাব দেখা যায়নি। কিন্তু এক লক্ষের উপরে জল ছাড়ার পর কিছু এলাকায় তার প্রভাব পড়েছে। তবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।













































