Mamata Shyambazar: হালিশহরের পর এবার শ্যামবাজারে মমতাকে ঘিরে উত্তেজনা, নেতাজিকে নিয়ে কটুক্তির তীব্র প্রতিবাদ
ভারত নিউজ ২৪*৭
উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের পরে এবারে খাস কলকাতা। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত পরশুদিন অর্থাৎ রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহরের নিহত তৃণমূল কর্মী বিরজু কেওটের বাড়িতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ইঁট ও পাথর ছুঁড়ে তাকে আক্রমণ করার পাশাপাশি দেওয়া হয়েছিল অশালীন ভাষায় নানা ধরনের স্লোগান। আজ আরো একবার শ্যামবাজারে পাঁচ মাথার মোড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পাদদেশে দলীয় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রেখে ফেরার পথে আক্রান্ত হতে হলো মমতাকে।
সম্প্রতি বাংলায় বিজেপির কিছু নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অশালীন মিম এবং কটুক্তির প্রতিবাদ জানাতে আজ মঙ্গলবার শ্যামবাজার মোড়ে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল। সেখানেই তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তৃণমূল নেতাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ মঞ্চে উপস্থিত হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নেতাজিকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি মমতা এ দিন শ্রদ্ধা জানান শহীদ ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষেও। কিন্তু নেতাজি-মুর্তির পাদদেশে মমতা নেতাজির স্ট্যাচুতে মাল্যদান করার পরেই স্থানীয় কিছু ব্যক্তির নিজেদের এলাকার বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে দাবি তোলেন, যার হাতে কালি লেগেছে, সে নেতাজির গলায় মালা দেবে না।
শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে সেই সময় যথেষ্ট সংখ্যক পুলিশ কর্মী উপস্থিত থাকলেও কোনোভাবে মমতার পথসভার একেবারে কাছে চলে আসে তারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান দিতে শুরু করে, যার ফলে সভাস্থলে হট্টগোল লেগে যায়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির মদতপুষ্ট কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে দলীয় কর্মসূচি বানচাল করতে এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অসম্মান করতেই এই ধরনের কুরুচিকর বিক্ষোভের নাটক সাজিয়েছিল।
যদিও আক্রমণকারীদের এই স্লোগান অথবা কটুক্তিতে কর্ণপাত না করে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর স্ট্যাচুতে মাল্যদান করার পাশাপাশি শহীদ ক্ষুদিরামের ছবি হাতে নিয়ে মহাত্মা গান্ধী থেকে মাতঙ্গিনী হাজরার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মমতা বলেন, আমরা দেখানোর জন্য কোনও অনুষ্ঠান করি না। আমরা হৃদয় দিয়ে ভাবি। বিজেপি নেতাদের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অসম্মানজনক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। নেতাজিকে নিয়ে বিজেপির নেতাদের এই ধরনের মন্তব্য আমরা মেনে নেবো না এবং এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নেতাজির প্রতি অসম্মানের প্রতিবাদ জানাতেই আজ আমরা শ্যামবাজারে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে সমবেত হয়েছি। দেশের জন্য যাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্যকে আমরা ধিক্কার জানাই। স্বাধীনতার জন্য নেতাজি ও অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যে লড়াই করেছিলেন, তা আমরা কোনওদিন ভুলতে পারি না। আজ আমরা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছি। তাঁরা সকলেই আমাদের গর্ব। আমরা শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য কোনও অনুষ্ঠান করি না।















































