বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে রাস্তাকে ‘নিজস্ব সম্পত্তি’ ভাবার দিন শেষ! ফাঁকা জমি অপরিষ্কার রাখলেও কড়া ব্যবস্থা, নতুন নিয়মে বাড়ছে প্রশাসনের নজরদারি।
ভারত নিউজ ২৪*৭
“বাড়ি করছি, তাই রাস্তা আটকে রাখব”— এই মানসিকতার দিন শেষ হতে চলেছে। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ, তারপরই রাস্তার উপর ইট, বালি বা পাথরের স্তূপ ফেলে রাখলে সরাসরি জরিমানার মুখে পড়তে হবে। শিলিগুড়ি থেকে এমনই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
শহরের রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রেখে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ— এই অভিযোগ নতুন নয়। কোথাও রাস্তা সরু হয়ে যাচ্ছে, কোথাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, আবার কোথাও যানজট নিত্যসঙ্গী। এবার সেই সমস্যার বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলল।
শিলিগুড়ির একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অগ্নিমিত্রা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তার উপর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখলে জরিমানা করা হবে। তাঁর কথায়, রাস্তা কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; বাড়ি নির্মাণের সামগ্রী নিজের জমির মধ্যেই রাখতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, “আপনি বাড়ি করছেন, তাই বলে সাধারণ মানুষের রাস্তা দখল করতে পারেন না। রাস্তা সবার। নিয়ম ভাঙলে জরিমানা দিতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর নতুন নিয়ম নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
শুধু রাস্তা নয়, নজর এবার ফাঁকা জমির দিকেও। বছরের পর বছর আগাছা, নোংরা জল বা ঝোপঝাড়ে ভরা জমি রেখে দিলে আর ছাড় মিলবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, এমন জমি থেকে মশার বংশবিস্তার হয় এবং আশপাশের মানুষ ডেঙ্গি-সহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে পড়েন।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, “নিজের বাড়ি যেমন পরিষ্কার রাখেন, তেমনই নিজের ফাঁকা জমিও পরিষ্কার রাখতে হবে। অন্যের অসুবিধার কারণ হওয়া চলবে না।”
এতেই শেষ নয়। বেআইনি পার্কিং নিয়েও আরও একবার কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন তিনি। নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে গাড়ি বা বাইক রেখে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করলে মোটা অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে নতুন একটি অ্যাপ আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ফুটপাত দখল প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, ফুটপাত পথচারীদের জন্য, তাই সেখানে চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। যদিও তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী দুর্গাপুজো পর্যন্ত কোনও হকার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে না। আপাতত আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা হবে।
১ সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— এবার কি সত্যিই বদলাবে শহরের চেহারা? নাকি আগের মতোই নিয়ম থাকবে কাগজে-কলমে?
এখন নজর একটাই— প্রশাসনের এই কড়া বার্তা মাঠে কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হয়, আর নাগরিকরা নতুন নিয়ম কতটা মেনে চলেন।

















































