ছাত্র আন্দোলনকে ‘মার্কেটিং টুল’ বানানোর অভিযোগ (Akanksha Puri)-র। পরিচিত কয়েকজন অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি অভিনেত্রীর। অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ অবশ্য এখনও সামনে আসেনি।
ভারত নিউজ ২৪*৭
ছাত্র আন্দোলনের উত্তপ্ত আবহে এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন (Bigg Boss OTT)-খ্যাত অভিনেত্রী (Akanksha Puri)। তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে রাতারাতি সরগরম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য নাকি অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল— এমনই বিস্ফোরক দাবি করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আকাঙ্ক্ষা পুরী জানান, তাঁর পরিচিত কয়েকজন অভিনেতা এবং ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল চলমান ছাত্র আন্দোলনে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। তাঁর দাবি, এই অংশগ্রহণের বিনিময়ে অর্থের প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল। তবে তিনি কোনও ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি। ফলে অভিযোগ ঘিরে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনই উঠেছে একাধিক প্রশ্নও।
অভিনেত্রীর কথায়, “আমি শুধু চাই মানুষ সত্যের পাশে দাঁড়াক। কোনও আন্দোলনকে মার্কেটিংয়ের হাতিয়ার বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম বানানো উচিত নয়। যারা ন্যায্য দাবির জন্য লড়াই করছে, তাদের পাশে থাকুন।”
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। কেউ তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি তুলছেন, আবার অনেকে বলছেন, অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ সামনে না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
আকাঙ্ক্ষা আরও বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনও উদ্যোগের অংশ হতে চান না। তাঁর দাবি, “আমি সেখানে থাকি বা না থাকি, তাতে কিছু যায় আসে না। যখনই প্রয়োজন হবে, আমি সত্যের পক্ষেই দাঁড়াব।” তাঁর এই মন্তব্য অনেকের নজর কেড়েছে।
শুধু বিতর্ক নয়, ছাত্রদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, “ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এত কম বয়সে এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেটা সত্যিই কষ্টের।” তাঁর এই মানবিক বার্তাও নেটিজেনদের একাংশের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে (Delhi)-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন তীব্র আকার নিয়েছে। রাজধানীর (Jantar Mantar)-এ হাজার হাজার পরীক্ষার্থী ও যুবক-যুবতী বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। বিষয়টি ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) এক ভিডিও বার্তায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে আরও শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে আন্দোলনের আবহে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে আসে। সমাজকর্মী (Sonam Wangchuk)-এর অনশন ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতার মাঝেই (Gurugram)-এর (Medanta Hospital)-এ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী (JP Nadda) এবং কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী (Dr Jitendra Singh) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে অনশন প্রত্যাহারের খবর সামনে আসে।
তবে আকাঙ্ক্ষা পুরীর করা অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের তরফে স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত জনমত, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
একদিকে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ, অন্যদিকে আন্দোলনকে ঘিরে ওঠা নতুন অভিযোগ— দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। আকাঙ্ক্ষা পুরীর এই মন্তব্য কি নতুন করে তদন্ত বা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেবে, নাকি প্রমাণের অভাবে বিতর্ক থেমে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছে দেশ।
















































