তদন্তে নতুন মোড়—ধৃত দুই ভাইয়ের ফোনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কল রেকর্ডের দাবি। সুপারি কিলিংয়ের নেপথ্যে কি আরও বড় রাজনৈতিক চক্রান্ত?
ভারত নিউজ ২৪*৭
রাজ্য রাজনীতিকে নাড়িয়ে দেওয়া [Chandranath Rath Murder Case]–এ ফের বড় অগ্রগতির দাবি করল সিবিআই। মুখ্যমন্ত্রী [Suvendu Adhikari]–র ঘনিষ্ঠ সহকারী [Chandranath Rath]–এর হত্যাকাণ্ডে এবার গ্রেফতার হল দুই অভিযুক্ত, যাদের তদন্তকারীরা এই ষড়যন্ত্রের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে দেখছেন। আর সেই গ্রেফতারির পরই উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের ল্যান্ডলাইন নম্বরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সূত্র পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা বলে দাবি।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিবিআই সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্ত হল সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকর। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে [Chandranath Rath]–এর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকলেও, তাঁর গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও তা বাইরে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিল। অভিযোগ, পরবর্তীতে ভাড়াটে শুটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং হামলার পরিকল্পনাতেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতদের ফোনের কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে। সিবিআইয়ের দাবি, বিশেষ করে সাগর সোনকরের ফোন থেকে একটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের ল্যান্ডলাইন নম্বরে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। যদিও কোন দলের সঙ্গে এই যোগাযোগ ছিল, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই এগোনো হচ্ছে এবং এখনও তদন্ত চলছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ মে। [Madhyamgram, North 24 Parganas]–এর কাছে বাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা কাছ থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে [Chandranath Rath]–কে। প্রকাশ্য রাস্তায় এই হামলার পরই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় রাজ্য জুড়ে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
এরপর তৈরি হয় বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। [West Bengal], [Uttar Pradesh] এবং [Bihar]–এর একাধিক জেলায় অভিযান চালিয়ে একে একে গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন শুটারকে। তদন্তে উঠে আসে আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের যোগসূত্রও।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের বলিয়া থেকে রাজকুমার সিং, মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য ও জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিং ওরফে মনুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে নবীন কুমার সিং এবং গোলু সিং ওরফে টাইগারকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা হামলায় ব্যবহৃত মোটরবাইক এবং একটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করেছেন।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আরও একটি বিষয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে [Suvendu Adhikari]–র ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীর অস্বাভাবিক বা রহস্যজনক মৃত্যুর প্রসঙ্গও নতুন করে সামনে এসেছে। যদিও প্রতিটি ঘটনার তদন্ত ও প্রেক্ষাপট আলাদা, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনাগুলিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সিবিআই এখন খতিয়ে দেখছে, ভাড়াটে শুটারদের কাছে টাকা কীভাবে পৌঁছেছিল, কোনও হাওয়ালা চক্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, এবং নেপথ্যে আরও কেউ ছিল কি না। ধৃতদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে পুরো ষড়যন্ত্রের চিত্র স্পষ্ট করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারির পর তদন্ত নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করল। ফোন রেকর্ড, আর্থিক লেনদেন এবং আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র—সব মিলিয়ে এখন নজর একটাই প্রশ্নে: এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কি আরও বড় কোনও চক্র কাজ করেছিল?
সেই উত্তরই হয়তো আগামী কয়েক দিনের তদন্তে সামনে আসবে। আর তাতেই নির্ধারিত হতে পারে রাজ্যের অন্যতম আলোচিত এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী অধ্যায়।

















































