যন্তর মন্তরে উচ্ছ্বাস, কান্না আর স্লোগানে মুখর আন্দোলনকারীরা। ‘এই লড়াই দেশের পড়ুয়াদের জয়’—দাবি অভিজিৎ দীপের। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দিল কেন্দ্র।
ভারত নিউজ ২৪*৭
অবশেষে বড়সড় মোড়। টানা ৩৬ দিনের লাগাতার আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদ ছাড়তেই দিলেন। শনিবারের এই ঘটনাকে ঘিরে কার্যত তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। আর ইস্তফার খবর সামনে আসতেই দিল্লির যন্তর মন্তরে যেন উৎসবের আবহ। স্লোগান, করতালি, উচ্ছ্বাস—এক মুহূর্তে বদলে গেল আন্দোলনের মঞ্চের ছবি।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপ মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি। তাঁর গলায় ছিল স্বস্তি, চোখে ছিল দীর্ঘ লড়াইয়ের ক্লান্তি। তিনি বলেন, “এটা কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে জয় নয়, এটা গণতন্ত্রের জয়। ছাত্র-যুবদের ঐক্যের জয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে।
গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে (NEET Paper Leak) ইস্যুকে সামনে রেখে দিল্লির (Jantar Mantar) আন্দোলন কার্যত জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছিল। হাজার হাজার ছাত্র-যুব, বিভিন্ন সংগঠন এবং বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। আন্দোলনের মূল দাবি ছিল পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব নির্ধারণ।
শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই আন্দোলন মঞ্চে শুরু হয় উল্লাস। কেউ জাতীয় পতাকা হাতে নাচতে শুরু করেন, কেউ একে “ঐতিহাসিক দিন” বলে আখ্যা দেন। অনেক আন্দোলনকারী একে দীর্ঘ সংগ্রামের প্রথম বড় সাফল্য বলেও দাবি করেন।
অভিজিৎ দীপ বলেন, “ভয় না পেয়ে, শান্তিপূর্ণভাবে লড়াই চালিয়ে গেলে পরিবর্তন সম্ভব—আজ তার প্রমাণ মিলল। এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের ভবিষ্যতের জন্য ছিল।”
এদিকে নাটকীয়ভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্র নতুন শিক্ষামন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা গ্রহণ করার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে (Prahlad Joshi) নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দ্রুত এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্রের “ড্যামেজ কন্ট্রোল” বলেও ব্যাখ্যা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ, যদিও সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনও মন্তব্য করেনি।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা। আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রের একাধিক বৈঠকও হয়। শনিবার আবারও জে পি নাড্ডা (JP Nadda) এবং জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh)-এর সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল আন্দোলনের প্রতিনিধিদের। কিন্তু বৈঠক শুরুর আগেই আসে ইস্তফার খবর।
তারপরেও নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের শেষে ককরোচ জনতা পার্টির তরফে দাবি করা হয়, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাই নয়, তাঁদের উত্থাপিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক আশ্বাস মিলেছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি।
এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়। যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে সংগঠনের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনায় শুধু একজন মন্ত্রীর পরিবর্তন হল না, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ছাত্র রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন বিতর্ক শুরু হল। আগামী দিনে নতুন শিক্ষামন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
দেশজুড়ে কোটি কোটি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই দিকে—ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিদায়ের পর শিক্ষা ব্যবস্থায় সত্যিই কি বদলের হাওয়া বইবে, নাকি এ ছিল আরও বড় রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা? সময়ই দেবে সেই উত্তর।















































