সাংবাদিকদের উপর হামলা থেকে বিদেশি যোগের ইঙ্গিত—নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া থেকে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দু অধিকারীর। তদন্তের ফল কী হবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা।
ভারত নিউজ ২৪×৭ | কলকাতা
ধর্মতলার বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া থেকে এমন একাধিক মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী [শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)], যা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। তাঁর দাবি, ধর্মতলার অশান্তিতে যাঁরা জড়িত, তাঁরা কোনওভাবেই প্রকৃত ছাত্র নন। বরং তদন্তে বিদেশি মদত, মৌলবাদী যোগ এবং সমাজবিরোধী চক্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
রবিবার [নন্দীগ্রাম (Nandigram)]-এর সোনাচূড়ায় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী [নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)]-র ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, সম্প্রতি [ধর্মতলা (Dharmatala)]-য় যে হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে প্রকৃত ছাত্র আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই।
শুভেন্দুর কথায়, “যাঁরা পুলিশের উপর হামলা করেছেন, সাংবাদিকদের মারধর করেছেন, তাঁরা ছাত্র নন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুন্ডাদমন আইনও প্রয়োগ করা হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে নিট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রছাত্রীদের একাংশও সমাজমাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে, ধর্মতলার ঘটনায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে এই ঘটনাকে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয় বলেই তাঁর বক্তব্য।
ধর্মতলার অশান্তির পর ইতিমধ্যেই [হেয়ার স্ট্রিট থানা (Hare Street Police Station)] এবং [এন্টালি থানা (Entally Police Station)]-য় মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, মামলাগুলির ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারার পাশাপাশি গুন্ডাদমন আইনও যুক্ত করা হয়েছে।
শুভেন্দুর অভিযোগ, ধৃতদের কয়েকজন রাজ্যের বাইরে পালানোর পরিকল্পনাও করছিল। সেই কারণেই তদন্তকারী সংস্থাগুলি আরও সতর্কভাবে গোটা ঘটনার নেপথ্য খতিয়ে দেখছে।
সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি করেছে তাঁর বিদেশি মদতের প্রসঙ্গ। শুভেন্দু বলেন, “এই শক্তির পিছনে বিদেশি মদত থাকতে পারে। তদন্তকারীরা সেই দিকটিও খতিয়ে দেখছেন।” যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যেভাবে সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অধিকাংশ মামলাই সাংবাদিকরাই করেছেন। পুলিশও পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ হবে।”
এদিন তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে অসন্তুষ্ট কিছু গোষ্ঠী পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর বক্তব্য, খারিজি মাদ্রাসা সংক্রান্ত তদন্ত, ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পর থেকেই কিছু মহল ক্ষুব্ধ।
এই প্রেক্ষাপটেই তিনি বলেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে গেলে বাধা আসবেই। কিন্তু কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধর্মতলার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর ইতিমধ্যেই তীব্র আকার নিয়েছে। একদিকে সরকার ও প্রশাসনের তদন্ত এগোচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরগুলিও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। ফলে এই ইস্যু আগামী দিনেও রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তদন্ত শেষ হলে সত্যিই কি বিদেশি যোগের কোনও প্রমাণ সামনে আসবে, নাকি এই বিতর্ক আরও নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দেবে? এখন নজর সেদিকেই।















































