স্বামীর থেকে দীর্ঘদিন আলাদা থাকার পর নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে জোর তদন্ত।
ভারত নিউজ ২৪*৭
উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) [মধ্যমগ্রাম (Madhyamgram)]-এর একটি হোটেলের বন্ধ ঘর। অনেকক্ষণ দরজা না খোলায় সন্দেহ। এরপর দরজা ভেঙে পুলিশ যা দেখল, তা ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল ৩৮ বছরের এক মহিলার দেহ। আর সেই মৃত্যুকে ঘিরেই সামনে এসেছে এক জটিল ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্প।
মৃতার নাম রিনা রাম। তিনি [পাটুলি (Patuli)] শিবতলার নারকেল বাগান এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রামের ব্ল্যাক ডায়মন্ড হোটেলের ১০১ নম্বর কক্ষে তিনি উঠেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকলেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় হোটেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। ভিতরে ঢুকেই সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রিনা রামের দেহ উদ্ধার হয়। পরে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কীভাবে এই মৃত্যু, তার উত্তর খুঁজতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রিনা দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন। সেই সময়েই তাঁর পরিচয় হয় এলাকারই বাসিন্দা গৌরব শেঠ ওরফে রাহুলের সঙ্গে। বয়সে প্রায় ১০ বছরের ছোট ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিনা প্রায়ই ওই হোটেলে ঘর ভাড়া নিতেন এবং সেখানে গৌরব তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যেতেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ১৮ জুলাই ওই যুবক শেষবার হোটেলে গিয়েছিলেন বলে তথ্য মিলেছে। এরপর কী ঘটেছিল, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এদিকে মৃতার পরিবারের অভিযোগ, কয়েকদিন আগেই রিনা ও গৌরবের মধ্যে তীব্র বচসা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরিবারের দাবি, এই মৃত্যুর পিছনে ওই যুবকের ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গৌরব শেঠকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা তাঁর বয়ান, মোবাইল ফোনের তথ্য, কল রেকর্ড, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেও নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রিনা ও গৌরবের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা চলত। তবে সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে কি না, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ তদন্তকারীরা।
ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতার পরিবারে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, এটি কি শুধুই আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও অজানা রহস্য? সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।
মধ্যমগ্রামের এই রহস্যমৃত্যুর জট কবে খুলবে? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ফরেন্সিক তথ্য এবং পুলিশের তদন্ত—সবকিছুর দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর। শেষ পর্যন্ত সত্যিই কী ঘটেছিল সেই হোটেল কক্ষে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।















































