Bhabanipur, Kolkata-এ প্রথম পদক্ষেপ, এবার গোটা রাজ্যে দেশপ্রেমের বার্তা ছড়াতে মেগা পরিকল্পনা; ১০ অগস্ট ৫০ হাজার মানুষের ঐতিহাসিক তিরঙ্গা যাত্রার ঘোষণা
ভারত নিউজ ২৪*৭
স্বাধীনতা দিবসের কাউন্টডাউন শুরু হতেই বদলে গেল বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আবহ। হাতে জাতীয় পতাকা, মুখে ‘ভারত মাতার জয়’ ধ্বনি, আর হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে শুক্রবার [Bhabanipur, Kolkata] যেন পরিণত হল এক বিশাল দেশপ্রেমের মিছিলে।
এই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী [Suvendu Adhikari]। তাঁর হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বলে দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ধরনেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল এই কর্মসূচিতে।
শুক্রবার [Survey Building, Kolkata] থেকে হাজরা মোড় (Hazra, Kolkata) পর্যন্ত আয়োজিত বিশাল তিরঙ্গা যাত্রায় অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। জাতীয় পতাকায় রঙিন হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সাধারণ মানুষ, যুবক-যুবতী, প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সকলের উপস্থিতিতে কর্মসূচি কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মিছিল শেষে মুখ্যমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেন। তাঁর বক্তব্য, চলতি বছরে রাজ্য সরকারের সংস্কৃতি দফতর (West Bengal Culture Department)-এর উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে। শুধু তাই নয়, সরকারি দফতর, প্রশাসনিক ভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও জাতীয় পতাকার রঙে আলোকসজ্জায় সাজানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “জাতীয় পতাকা শুধু একটি প্রতীক নয়, এটি দেশের প্রতি ভালোবাসা, আত্মপরিচয় এবং নাগরিক দায়িত্ববোধেরও প্রতীক। নতুন প্রজন্মের মধ্যে সেই চেতনা আরও গভীর করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এর পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আরও এক মেগা কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১০ অগস্ট [Red Road, Kolkata] থেকে [Birla Planetarium, Kolkata] পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল তিরঙ্গা যাত্রার আয়োজন করা হবে। আয়োজকদের দাবি, এটি রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম দেশপ্রেমমূলক জনসমাবেশ হতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে প্রশাসনিক অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়েই এই উদ্যোগকে সরকারি পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুধু পতাকা বিতরণেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজ্যের স্কুল, কলেজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনা গড়ে তুলতে বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, কুইজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হবে। সরকারের মতে, স্বাধীনতার ইতিহাস এবং জাতীয় পতাকার মর্যাদা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে আরও সচেতন করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিনের তিরঙ্গা যাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন [Rajyavardhan Rathore], রাজ্যের মন্ত্রী [Tapas Roy], স্কুল শিক্ষামন্ত্রী [Dipak Barman], বিধায়ক [Shankar Sikdar], [Shishir Bajoria], বিজেপি নেতা [Anupam Bhattacharya], [Parmita Dutta]-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
বক্তব্যের শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী [Narendra Modi]-র ‘দিল সে তিরঙ্গা, পেয়ার সে তিরঙ্গা, হর ঘর তিরঙ্গা’ বার্তার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়, এটি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং ঐক্যের প্রতীক। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এখন এমন একটি সরকার কাজ করছে, যারা জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
এখন নজর ১০ অগস্টের মেগা তিরঙ্গা যাত্রার দিকে। ৫০ হাজার মানুষের সেই কর্মসূচি কি সত্যিই নতুন নজির গড়বে? নাকি স্বাধীনতা দিবসের আগে বাংলার রাজনীতিতে আরও নতুন বার্তা দেবে? উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই।
















































