ওম বিড়লার উপস্থিতির অনুষ্ঠান ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত, বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশের পরই কড়া পদক্ষেপ বিধানসভা সচিবালয়ের
ভারত নিউজ ২৪*৭
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ। বিধায়কদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে বিধানসভার মার্শাল-এবং-সিকিউরিটি অফিসার দেবব্রত মুখোপাধ্যায় (Debabrata Mukhopadhyay)কে সাসপেন্ড করেছে বিধানসভা (West Bengal Legislative Assembly) সচিবালয়। দীর্ঘদিনের বিধানসভা ইতিহাসে কোনও মার্শালের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপের নজির কার্যত নেই বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু সম্প্রতি আয়োজিত ১৮তম বিধানসভার নবনির্বাচিত সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। অভিযোগ, ওই কর্মসূচিতে দায়িত্বে থাকা মার্শালের আচরণে ক্ষুব্ধ হন একাধিক বিধায়ক। পরে তাঁরা বিষয়টি নিয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে শাসক দলের মুখ্য সচেতকের কাছে অভিযোগ জানান।
অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভা সচিবালয় গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে। এরপর সরকারি বিজ্ঞপ্তি (No. 911 L.A/Estab.) জারি করে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শৃঙ্খলাবিধির ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৭(১)(এ) ধারা অনুসারে তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সাসপেনশন চলাকালীন তিনি নির্ধারিত জীবিকা ভাতা পাবেন। ইতিমধ্যেই নির্দেশের কপি অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল, অর্থ দফতর-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র একজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়, বরং বিধানসভার শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নিয়ে কর্তৃপক্ষ যে কোনও ধরনের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে, তারও স্পষ্ট বার্তা।
উল্লেখ্য, বিধানসভার নিরাপত্তা, সদস্যদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অধিবেশন চলাকালীন শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মার্শাল ও তাঁর টিমের উপরেই থাকে। সম্প্রতি অধিবেশন চলাকালীন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)কে সভাকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর করেছিল এই মার্শালের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা দল। সেই ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন সব নজর বিভাগীয় তদন্তের রিপোর্টে। অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত। তবে একথা নিশ্চিত, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অন্দরে যেমন জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
তদন্তের রিপোর্টে কী উঠে আসবে? অভিযোগ কি প্রমাণিত হবে, নাকি সামনে আসবে অন্য কোনও তথ্য? এখন সেই দিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।

















































