ভারত নিউজ ২৪*৭
প্রত্যেক ব্যক্তিরই বিদেশে যাওয়ার এবং নিজের পছন্দের চিকিৎসা পরিষেবা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। এমন ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৩ বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এদিন কার্যত উড়িয়ে দিলেন দেশের অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এবং রাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তি জানিয়ে করা সওয়াল। এবারের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দায়ের হওয়া মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে অভিষেকের বিদেশ যাত্রার উপরে যে বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছিল সেই বিধি-নিষেধকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েই জয় পেলেন অভিষেক।
নিজের চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার আবেদন করে এই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে জানিয়ে দেয় এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে গিয়ে মেডিকেল বোর্ডের কাছে চোখের চিকিৎসা করানোর জন্য। যদিও সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে হাইকোর্টের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করেন অভিষেক। আজ শুনানির শুরুতেই রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু অভিষেকের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৬ মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলে তিনি আর দেশে না-ও ফিরতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তবে সেই দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অমূলক দাবি করে অভিষেকের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে জানান, অপারেশন সিঁদুর আউটরিচ কর্মসূচির জন্য অভিষেককে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি সেটি ব্যবহার করেই যাত্রা করবেন। ফলে আন্তর্জাতিক দূতাবাসগুলি সহজেই তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারবে, যা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে দূর করে। এ ছাড়াও তিনি এক জন বর্তমান সাংসদ, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং তাঁর পরিবার ভারতেই থাকছে। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেই অভিষেকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা রুজু করা হয়েছে। জবাবে এএসজি পাল্টা সওয়াল করেন, বিদেশে চিকিৎসার আদৌ প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে গঠিত চিকিৎসকমণ্ডলীর সামনে হাজিরা দেওয়া উচিত ছিল অভিষেকের। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ জানান, প্রত্যেক ব্যক্তিরই বিদেশে যাওয়ার এবং নিজের পছন্দের চিকিৎসা পরিষেবা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চ আরও মনে করিয়ে দেয় যে, মূল মামলাটি একটি নির্বাচনী ভাষণের সঙ্গেই কেবল সম্পর্কিত।
শর্ত সাপেক্ষে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্তে অভিষেকের আবেদন মঞ্জুর করেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, অভিষেককে তাঁর ডিপ্লোম্যাটিক বা কূটনৈতিক পাসপোর্টের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর সম্পূর্ণ ভ্রমণসূচি ও বিদেশে অবস্থানের ঠিকানা তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। তবে অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণনের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, সেই ভ্রমণসূচির গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে এবং তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না।
















































