নিউটাউন (New Town)]-এ সিএএ শংসাপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে [শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister of West Bengal)]-র দাবি, ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশি উদ্বাস্তদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। একই মঞ্চ থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও তুললেন তিনি।
ভারত নিউজ ২৪*৭
বহু বছরের অপেক্ষার অবসান। কারও হাতে প্রথমবার ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র, কারও চোখে জল, কারও মুখে স্বস্তির হাসি। আর সেই আবেগঘন মুহূর্তকেই রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চে পরিণত করলেন [শুভেন্দু অধিকারী (Chief Minister of West Bengal)]। সিএএ-র আওতায় বৈধ আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিয়ে তিনি দাবি করলেন— নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন বাস্তবে রূপ পাচ্ছে।
[নিউটাউন (New Town)]-এর কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৩০০ জন বৈধ আবেদনকারীর হাতে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে নিজেই শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট— ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া এখন দ্রুত এগোচ্ছে। তাঁর কথায়, “যাঁরা এতদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন, তাঁরা আজ আইনসম্মতভাবে নিজেদের অধিকার ফিরে পাচ্ছেন।”
এদিন তিনি [নরেন্দ্র মোদী (Prime Minister of India)] এবং [অমিত শাহ (Union Home Minister of India)]-র ভূমিকাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ফলই আজকের এই নাগরিকত্ব প্রদান।
শুধু নাগরিকত্ব বিতরণেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু। একই মঞ্চ থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে সিএএ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। অনেককে বলা হয়েছিল, আবেদন করলে রেশন, ভাতা বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে কিংবা এটি এনআরসি-র সমার্থক। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের আশঙ্কার কারণে বহু যোগ্য ব্যক্তি আবেদন করতেই সাহস পাননি।
তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি কার্যকর হওয়ার পর নাগরিকত্ব প্রদানের প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে। অনুষ্ঠানে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ২৩,৯৫৬ জন আবেদনকারী নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৯০৫। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে প্রায় ৫,৯৬৬টি নতুন শংসাপত্র বিতরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে [নদীয়া (Nadia)] জেলায় সবচেয়ে বেশি আবেদনকারী শংসাপত্র পেয়েছেন, তার পরেই রয়েছে [উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas)]।
তিনি আরও বলেন, সিএএ-র আওতায় সেই সব ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে, যাঁরা ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে এসেছেন এবং আইনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগে মতপার্থক্যের কারণে অনেককে সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতো না, কিন্তু এখন সেই সংস্কৃতি বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিএএ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, এই আইন নিয়ে নানা ভুল ধারণা ছড়ানো হয়েছিল। তাঁর মতে, আইনে কোথাও কোনও ভারতীয় নাগরিকের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কথা বলা নেই; বরং নির্দিষ্ট যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থাই এতে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ডিজিটাল জনগণনা শুরুর দিনেই সিএএ শংসাপত্র বিতরণের এই কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলার উদ্বাস্তু ভোটব্যাঙ্কের কাছে এর প্রতীকী গুরুত্বও যথেষ্ট।
এখন নজর একটাই— নাগরিকত্ব বিতরণের এই গতি আগামী দিনে আরও বাড়বে, নাকি সিএএ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হবে? বাংলার রাজনীতিতে এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

















































