নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্যে ক্ষমাপ্রার্থনা, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে এফআইআর
ভারত নিউজ ২৪*৭
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন কোচবিহারের রাজবংশী নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। ফলে অনন্ত মহারাজকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। (West Bengal Politics)
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বার্তায় অনন্ত মহারাজ বলেন, ‘‘নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি। নেতাজি সম্পর্কে আমার কিছু অনিচ্ছাকৃত বক্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’’ তাঁর এই প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনাকে (Ananta Maharaj Apology) রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের একাধিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি শুধু নেতাজিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যই করেননি, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই মন্তব্যের পর বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ শুরু হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার কথাও সামনে আসে। (Netaji Subhas Chandra Bose News)
গ্রেফতারির জল্পনার মধ্যেই ক্ষমা
বিতর্কের মধ্যেই নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বা পোস্টের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে অনন্ত মহারাজের কয়েকজন অনুগামীও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এরপরই প্রশ্ন ওঠে, এবার কি অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও পুলিশি পদক্ষেপ হতে পারে? (Police Action)
এর পাশাপাশি, পূর্বতন সরকারের দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান অনন্ত মহারাজের কাছ থেকে প্রত্যাহারের কথাও জানানো হয়েছে বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান তিনি।
‘ক্ষমার অযোগ্য কাজ’, বললেন মুখ্যমন্ত্রী
ক্ষমাপ্রার্থনার পর এদিন বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে। তাঁর বক্তব্য, অনন্ত মহারাজ ‘‘ক্ষমার অযোগ্য কাজ’’ করেছেন। তবে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন, সেটিকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে তিনি সতর্ক থাকবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়।
একইসঙ্গে জানানো হয়, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিছু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে আইন নিজের পথে চলবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। (Government Decision)
লালবাজারে তৃণমূলের অভিযোগ
অন্যদিকে, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের আইটি ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলের ইনচার্জ উপাসনা চৌধুরী কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় লিখিত অভিযোগ করেন বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। (Kolkata News)
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মতো জাতীয় নেতাকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে এবং ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
ফলে একদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমাপ্রার্থনা, অন্যদিকে এফআইআর—নেতাজিকে ঘিরে অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের বিতর্ক এখন রাজনৈতিক এবং আইনি, দুই ক্ষেত্রেই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আইনগতভাবে অভিযোগগুলির কী পরিণতি হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। (Breaking News)















































