লড়াই শেষ, এবার বিদায়ের পালা! আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর দেখা যাবে না মেসিকে
ভারত নিউজ ২৪*৭
আর নয়। আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির (Lionel Messi) সেই ছুটে চলা, সেই বাঁ পায়ের জাদু, সেই গোলের পর দু’হাত তুলে উদযাপন—সবই এবার ইতিহাস। আন্তর্জাতিক ফুটবল (International Football) থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন ৩৯ বছরের মহাতারকা। ২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের পর ২০৭টি ম্যাচ খেলে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন তিনি।
মেসির অবসরের ঘোষণা (Lionel Messi Retirement) ফুটবল দুনিয়ায় তৈরি করেছে গভীর আবেগের আবহ। যে জার্সির জন্য বছরের পর বছর লড়াই করেছেন, যে দলের হয়ে একাধিকবার ব্যর্থতার যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, সেই আর্জেন্টিনার জার্সি এবার তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
নিজের বিবৃতিতে মেসি জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ছিল। তাঁর কথায়, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, একের পর এক অধ্যায়ের শেষ হচ্ছে—আর আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের শেষটাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
তবে বিদায়ের মুহূর্তেও নিজের দায়বদ্ধতার কথা স্পষ্ট করেছেন মেসি। তাঁর দাবি, শুধু সাম্প্রতিক সাফল্যের সময় নয়, তার আগেও জাতীয় দলের হয়ে তিনি সবসময় নিজের সবটা উজাড় করে দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার মানুষকে আনন্দ দেওয়া এবং ফুটবলের মাধ্যমে তাঁদের গর্বিত করাই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
মেসির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার (Lionel Messi Argentina Career) অবশ্য শুধু ট্রফির গল্প নয়। দীর্ঘ পথচলায় এসেছে হতাশা, সমালোচনা এবং হারার যন্ত্রণা। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে সুযোগ নষ্ট করার পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। পরে অবশ্য জাতীয় দলে ফিরে আসেন এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে দলকে সাহায্য করেন।
তারপর বদলে যায় গল্পটা।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা (Copa América) খেতাব। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ (2022 FIFA World Cup) জয়ের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক যাত্রা। তবে চলতি গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের ফাইনালে রানার্স-আপ হওয়ার পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।
মেসি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র দু’দিন পর, ২১ জুলাই তিনি নিজের অবসর সংক্রান্ত বিবৃতি লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু সেটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত পরে নেন। গত মাসে তাঁর বাবা জর্জের মৃত্যু সেই সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বাবার মৃত্যুর পর একটি বিবৃতিতে মেসি জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে আর কতদিন খেলবেন তা নিয়ে তাঁর মনে যথেষ্ট সংশয় তৈরি হয়েছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালের শারীরিক ও মানসিক চাপের কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, সেদিন নিজের শারীরিক সীমার বাইরে গিয়ে লড়াই করার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত তাঁর পা আর সঙ্গ দেয়নি।
এখন অবশ্য জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে তাঁকে দেখা যাবে। ইন্টার মায়ামির (Inter Miami) সঙ্গে তাঁর চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত। সম্প্রতি মেজর লিগ সকারের (Major League Soccer) একটি ম্যাচে প্রথমবার চার গোল করে দলকে ৭-১ ব্যবধানে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি।
একটা সময় যে ছেলেটি আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই মেসিই এবার বলছেন—তাঁর আর দেওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই। তাঁর জায়গা নিতে প্রস্তুত হয়ে উঠছে একঝাঁক তরুণ। কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসির জায়গাটা যে এত সহজে কেউ নিতে পারবে না, তা বলাই যায়।
একটা জার্সি, একটা যুগ, অসংখ্য স্মৃতি—আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষটা তাই শুধু অবসর নয়, এক আবেগঘন বিদায়।















































