গেরুয়া বসনে সাধু-সন্তদের সঙ্গে যাদবপুরে শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ, ‘শেকড় থেকে উপড়ে ফেলব’ মন্তব্যে রাজনৈতিক উত্তাপ
ভারত নিউজ ২৪*৭
‘আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড় সহ তুলব।’ এভাবেই বুধবার যাদবপুরে গেরুয়া বর্ষণ করে সাধু সন্তাদের সঙ্গে নিয়ে গেরুয়া যাত্রা থেকে দেশ বিরোধীদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দশ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’-এর পর এবার ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ হল যাদবপুরে। নেতৃত্বে ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশাল পদযাত্রাটি শুরু হয় গোলপার্ক থেকে। সেখান থেকে যাদবপুরে আসে ওই মিছিল। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে এদিনের পদযাত্রায় পা মেলান বিজেপির নেতৃবৃন্দরা।
কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয়তাবাদী চিন্তা ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে।
এদিকে মিছিল ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগেরবারের মতোই মূল ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জারি করা হয়েছিল এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি। এদিন গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তায় লাউডস্পিকার লাগানো হয় এবং পদযাত্রা এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে গায়ত্রী মন্ত্র বাজতে থাকে। গেরুয়াকে অসম্মান করা হচ্ছে, দেশ-বিরোধী কার্যকলাপ চলছে। এই দাবি তুলেই এদিন যাদবপুরে পথে নেমেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শীর্ষক সেই মিছিলে দলে দলে যোগ দেন নাগা সন্ন্যাসীরা।
মূলত সাগরমেলার সময় যে সাধুদের উপস্থিতি চোখে পড়ে, তাঁরাই এদিন মিছিলের অংশ। ছিলেন নানা প্রান্ত থেকে আসা সাধুসন্তরা। এদিন মিছিলের পুরোভাগে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর পরণেও ছিল গেরুয়া পোশাক। ‘স্বামী বিবেকানন্দের মাটিতে গেরুয়াই থাকবে’,পদযাত্রা শেষে যাদবপুরে দাঁড়িয়ে এমন বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং আরএসএস অনুমোদিত এবিভিপি-র মধ্যে সংঘাতের রেশ এখনও টাটকা। এর মাঝেই দেওয়াল দখলের লড়াই, স্লোগান নিয়ে বিতর্ক দানা বাধে। এক পক্ষ দেওয়াল লিখছে, তো অন্য পক্ষ তা মুছে ফের নিজেদের স্লোগান লিখে দিচ্ছে । এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই বুধবার তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ‘গেরুয়া সম্মান’ যাত্রার নেতৃত্ব দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধু-সন্তদের পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, তিনি গেরুয়ার অপমানের জবাব দিতে শপথ নিয়েছেন। কিছুদিনের মধ্যেই যাদবপুরে বেদপাঠের আসর বসবে বলেও বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করব সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।’ শুভেন্দু যাদবপুরে বলেন, আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড় সহ তুলব। আমি পণ করেছিলাম, কমিউনিস্টদের সরাব, পণ করেছিলাম জামাতের সরকারকে সরাব, আপনাদের আশীর্বাদে সেটা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই থাকবে।
শুভেন্দুর জনতার দরবারে পূর্ণদাস বাউল
বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবার অনুষ্ঠানে নিজের দখল হয়ে যাওয়া জমি বাঁচানোর আবেদন নিয়ে হাজির হলেন বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল। জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে আগেই বীরভূমের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিশিষ্ট বাউল শিল্পী পূর্ণদাস বাউল এবং তাঁর পুত্র দিব্যেন্দু দাস বাউল। অভিযোগ ছিল, ইলামবাজারের কামারপাড়া এলাকায় তাঁদের প্রায় চার বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে সুকুল টুডু নামে এক ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন। বুধবার, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে হাজির হয়েছিলেন পূর্ণদাস বাউল এবং তাঁর ছেলে-বৌমা। সাফ বক্তব্য, কে দখল করেছেন, কেন করেছেন, এতকিছু নিয়ে ভাবতে চান না তাঁরা। তাঁরা কেবল ফেরত চান দখল হয়ে যাওয়া জমি।
মূলত দুটি অভিযোগ রয়েছে পূর্ণদাস বাউলের। তাঁর ছেলে এদিন বলেন, বীরভূমের ইলামবাজারে পূর্ণদাস বাউলের জমি দখল করা হয়েছে এবং সেখানে অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছে অভিযোগ। তার ছেলে জানিয়েছে, তাঁদের নিজস্ব জমি বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে বহুতল আবাসন-সহ বিভিন্ন নির্মাণ করা হয়েছে। অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিনহা, লালন শেখের নামে অভিযোগ। পূর্ণদাসের ছেলে জানান, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমার ঠাকুরদাকে একটি জমি দিয়েছিলেন আখড়া করার জন্য।’ সেই আখড়ার জায়গা নিয়েই শুরু হয় বিপত্তি। ২০০৮ সালের ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। জানান, ওই জমি ফেরত চান। এছাড়া করোনা পরবর্তী ইলামবাজারেরর জমি দখল নিয়েও অভিযোগ জানান।
অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে কাউকে জানিয়ে কোন রকম সুরাহা হয়নি। এদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানান মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ছেলে দিব্যেন্দু দাস। জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছেন। অভিযোগ শুনে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁদের আশ্রম তৈরি করে দেওয়া হবে এবং সরকারের তরফ থেকেই সেই আশ্রম তৈরি করে দেওয়া হবে। দু-তিন মাসের মধ্যেই তাদের সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশ্বাস পেয়েছেন বলে জানান পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর ছেলে।













































