ওবিসি সংরক্ষণে বড় ধাক্কা! OBC-A ও OBC-B শংসাপত্র নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ
ভারত নিউজ ২৪*৭
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে জারি হওয়া ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি শংসাপত্র বাতিল করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি অনুজ সিংহের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যে আর এই দুই পৃথক শ্রেণি থাকছে না। ফলে আদালতের রায়ের পর যাঁদের হাতে এই সার্টিফিকেট ছিল, তাঁরা আর সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন না। এই রায়ের ফলে হাজার হাজার পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমলের ওবিসি সংরক্ষণ (OBC Reservation) নীতিতে বড় ধাক্কা দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। নতুন নিয়মে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি শংসাপত্র বাতিল করে দিল আদালত। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যে এখন থেকে আর ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি, এই দুই পৃথক শ্রেণি বলে কিছু থাকছে না। ফলে এই বিভাজনের ভিত্তিতে অতীতে যাঁদের হাতে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, তার আর কোনও বৈধতা রইল না।
বাতিল সমস্ত শংসাপত্র, মিলবে না সংরক্ষণ
হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়লেন সেই সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ, যাঁরা আদালতের আগের নির্দেশের পর নতুন নিয়মে ওবিসি শংসাপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এদিনের রায়ের পর থেকে শিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে ওই শংসাপত্রগুলি আর কোনও কাজে লাগবে না। সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার বদলে এখন থেকে ‘সাধারণ শ্রেণি’ বা আনরিজার্ভড ক্যাটেগরির নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করা হবে তাঁদের। এক ঝটকায় এই শংসাপত্রগুলি বাতিল হয়ে যাওয়ায় চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ ঘিরে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ ইতিহাস
২০১০ সালের পর রাজ্যে ওবিসি সম্প্রদায়কে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’, এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই তালিকা তৈরি ও আইনি বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট ওবিসি মামলার রায়ে ৬৬টি সম্প্রদায়কে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন করে সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে।
এরপর রাজ্য সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ওবিসি তালিকায় পরিবর্তন আনে এবং ‘এ’ ও ‘বি’ তালিকাতেও রদবদল করে। কিন্তু সেই সমীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ওঠে, মাত্র আড়াই হাজার মানুষের নমুনার উপর ভিত্তি করে সমীক্ষা চালিয়ে ১৪২টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলাটি ফের সুপ্রিম কোর্টে গড়ালেও নতুন তালিকার উপর সেই সময় কোনও স্থগিতাদেশ মেলেনি।
শেষ পর্যন্ত আইনি জট এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই এই বড় নির্দেশ দিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন খারিজ হয়ে যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে ওবিসি সংরক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে।















































