ভারত নিউজ ২৪*৭
“আমাদের রাজ্যে আগে বিধায়কেরা সরকারি দফতর থেকে কাজ করতেন। এখন প্রায় প্রত্যেক বিধায়কের নিজস্ব দফতর আছে। কেউ দলের দফতরকে নিজের দফতর বানিয়েছেন। কেউ আবার নতুন দফতর করেছেন। প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়কদের একটি করে সেবাকেন্দ্র চালু করতে হবে। তার মাধ্যমে নিজেদের এলাকার মানুষকে তাঁরা পরিষেবা দেবেন। যাঁরা তাঁদের ভোট দিয়েছেন, যাঁরা দেননি, প্রত্যেকেই পরিষেবা পাবেন। এই সেবাকেন্দ্রগুলির নাম হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র।” রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে দল মত নির্বিশেষে সমস্ত দলের বিধায়কদের উদ্দেশ্যে এমন নির্দেশিকার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর থেকে বিধায়কদের সেবাকেন্দ্রগুলিতে ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত নেতাজির একটি করে ছবি পাঠানো হবে। সেবাকেন্দ্রে সেই ছবি রাখতে হবে। এই কাজ করতে পারলেই আমরা মাসে ৩০ হাজার টাকা করে দেব।
নেতাজির বিরুদ্ধে কুৎসাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কটুক্তি এবং কুরুচিকর বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রেক্ষিতে মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারে নেতাজির বিরুদ্ধে কুৎসাকারীদের কোন রেয়াত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তা তিনি যে রাজনৈতিক দলের নেতা অথবা জনপ্রতিনিধি হোন না কেন। এমনকি নিজের দলের অর্থাৎ বিজেপির নেতা বা সাংসদ বা বিধায়ক হলেও নেতাজির বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করলে চরম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
নবান্নে রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কিছু মানুষ বিশ্ববন্দিত, প্রকৃত দেশপ্রেমিক, ভারতের স্বাধীনতার প্রধান স্থপতি, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করে চলেছেন। রাজ্য সরকার বিষয়টির দিকে নজর রেখেছিল। উত্তরবঙ্গের বিধায়করা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।”
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়
উত্তরবঙ্গের রাজবংশী নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর ৩৬৫ দিনের পক্ষ থেকে যাচাই করা না হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নেতাজীকে দেশদ্রোহী বলেও আক্রমণ করেন অনন্ত। নেতাজী আদৌ ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন, না অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল তাঁর, এমন প্রশ্নও তোলেন। বিজেপির টিকিট রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়ে নেতাজি সম্পর্কে এমন কুরুচি কর মন্তব্য করার পরেও দলের তরফে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল বিরোধী তৃণমূল এবং নেতাজির পরিবার।
মন্ত্রী হোন বা সাংসদ – পুলিশ ব্যবস্থা নেবে
নেতাজী নিয়ে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে দলীয় সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা সেই প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “কোন একজন ব্যক্তির নাম নিয়ে তাকে হিরো অথবা জিরো করতে চাই না। আমাদের সরকার এবং পুলিশ অবিলম্বে কঠোর এবং কঠিন ব্যবস্থা নেবে।
পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এসব চলবে না। সরকার এব্যাপারে জিরো টলাব়েন্স নীতি নিয় চলছে। বরদাস্ত করা হবে না। আমরা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে সম্মান করি। দিল্লিতে নেতাজীর মূর্তি রয়েছে কর্তব্যপথে। সেটাই বিজেপি-র অবস্থান। যে বা যাঁরা ওই সব পোস্ট করেছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতার করা হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা জনপ্রতিনিধি হস্তক্ষেপ করবেন না তাতে। আইন সবার জন্য সমান। তিনি মন্ত্রী হোন, সাংসদ হোন, বিধায়ক হোন, যে দলেরই হোন, যেই হোন, যে দলেরই হোন, সরকারি কর্মী, পুলিশকর্মী হলেও আইন সমান ভাবে প্রয়োগ করা হবে।ফেসবুকে এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির যে সিস্টেম রয়েছে, রাজ্য সরকারের তরফে পদক্ষেপ করার ব্যবস্থা করছি। নির্দিষ্ট ধারায় গ্রেফতারির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। আর যাঁরা দুঃসাহস দেখিয়েছেন, আমি তাঁদের অনুরোধ করব, অনুরোধ ঠিক নয়, পরামর্শ দেব, তাঁরা যে দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তা ভাল নয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং পুলিশ ভালভাবে নিচ্ছে না এটাকে। অবিলম্বে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট করুন। নিজেদের পোস্ট ডিলিট করুন এখনই। ডিলিট করলেই যে ছাড় পাবেন, তা নয়। নির্দিষ্ট ধারায় পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা হস্তক্ষেপ করব না।”
প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি মাসে প্রাপ্য চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এত দিন তাঁদের চিকিৎসা খরচ বাবদ মাসে ছ’হাজার টাকা করে দেওয়া হত। এ বার থেকে তা বাড়িয়ে 10 হাজার টাকা করা হল।















































