Teachers Day-তে শুভেন্দু অধিকারীর বিস্ফোরক বার্তা, ‘রাষ্ট্রের ভিতরে থেকে যাঁরা রাষ্ট্রের ক্ষতি করেন, তাঁদের সঙ্গে আপস নয়’
ভারত নিউজ ২৪*৭
‘একটা বিষয় কম্প্রোমাইজ করা উচিত নয়। যাঁরা রাষ্ট্রের ভিতরে থেকে রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, দেশপ্রেমে প্রশ্ন তোলে, পূর্ণাঙ্গ বন্দেমাতরম গানে সমস্যা থাকে, যাঁরা পহেলগাঁও-এ আক্রমণ হলে প্রতিবাদ করে না, অথচ পাকিস্তানে আক্রমণ হলে প্রশ্ন তোলে। তাঁদের বিরুদ্ধে শিক্ষাসমাজ, রাষ্ট্রবাদী নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কত বড় ছিল আমাদের দেশটা ভাবুন। ধীরে ধীরে কাটতে কাটতে কত ছোট হয়েছে।’ আজ শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই দেশের মধ্যে থেকে দেশ বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার নিউটাউনের কনভেশন সেন্টারে বিদ্যাসাগর শিক্ষক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই বক্তৃতা রাখতে গিয়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে। শ্রদ্ধা জানান ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দকে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমেই রাধাকৃষ্ণন সম্পর্কে বলতে হবে। তাঁর জন্মদিনে শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। বিদ্যাসাগর ৩০০-র বেশি বই লিখে গিয়েছেন। সবথেকে বেশি কাজ করেছেন নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য। তিনি যে সংস্কার করে গিয়েছেন, তা আজকের দিনের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত, বলে গিয়েছেন স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর লেখা বই পড়ার সুযোগ হয়েছে। বেলুড় মঠ ও মিশনে একাধিক বই সংগ্রহ করেছি। শিক্ষা সম্পর্কে যে কথা বলেছেন, তা আজকের দিনে ভীষণ প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেছেন, এমন শিক্ষা চাই, মানুষের অন্তর্নিহিত প্রতিবাদ বিকশিত হয়, বুদ্ধিবৃত্তি বিকশিত হয়। তাই পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে যদি আটকে রাখি, তাহলে ভুল করব।’
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন অভ্যাস খারাপ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক ভুল করে ফেলেছি। ব্রতচারীর মতো শরীর গঠন তার ফিরিয়ে আনার দরকার রয়েছে। আমাদের এখানে এনসিসি তুলে দেওয়া হল। জয় হিন্দ বাহিনী তৈরি করা হল। ভীষণ ক্ষতি। এনসিসি-কে ফিরিয়ে আনা উচিত। আমরা খেলাধূলার প্রতি নজর দিইনি। আমি মনে করি, প্রত্যেকটি বিদ্যালয় আমি যে জেলা মেদিনীপুর থেকে উঠে এসেছি, সেই জেলা মাধ্যমিকে শতাংশের বিচারে সবসময় প্রথম স্থান হিসেবে উঠে আসে। আমাদের ওই জেলায় ময়না বলে একটা জায়গা রয়েছে। সেখানে আপনি যদি বিদ্যালয়গুলিতে যান, সেই পুরনো লোকেদের তৈরি করা ভাবনায় বড় বড় জমি দিয়ে গিয়েছেন। একেকটা বিদ্যালয়ে প্রেয়ার হল, বিরাট খেলার মাঠ, সাতার কাটার জন্য পুকুর, কী নেই সেখানে। ঢুকলেই মনে হবে শান্ত পরিবেশে এলাম। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি, আরেকদিকে বিদ্যাসাগর আবার কোথাও মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি। হলগুলিতে রবীন্দ্র চর্চা। যতরকমের শারীরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল। এগুলো অবহেলিত হয়েছে। এগুলো আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।’
পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের কিচেন গ্যাসে চলবে। বিদ্যুত তো থাকবেই। সোলার প্যানেলে কনভার্ট করুন। পাখার ব্যবস্থা করুন। অ্যাকাওয়াগার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, শৌচালয় দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শৌচালয়ের ব্যবস্থা করুন। তবলা, সেতার, হারমোনিয়াম, খঞ্জনি, একতারা দিন। লাইব্রেরিগুলি সাজান। খেলার মাঠ সাজিয়ে দিন। সুন্দর করে সাজান। রামকৃষ্ণ মঠের মতো সুন্দর পরিবেশ তৈরি করুন। ছাত্রছাত্রী তো এল, পড়াবে কে? যে পদ্ধতিতে শিক্ষক শব্দটা অমর্যাদা করা হয়েছে। শিক্ষক শব্দের কত বড় মানে রয়েছে। আমরা এখনও টিচারদের দেখলে আমি করে যাচ্ছি, উনি টোটো করে যাচ্ছেন। আমার গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে, টোটো পাস করিয়ে দিই। শিক্ষক শব্দের যে মর্যাদা, তার যে ব্যপ্তি, আজ আছে সেই জায়গার বলুন? পুনর্নির্মাণের দরকার নেই? সংস্কারের দরকার নেই? অনেক কিছু হারিয়েছি।
হারানো জিনিসকে ফেরাতে গেলে উপযুক্ত আচার্য নিয়োগ করতে হবে। প্রথম বিদ্যামন্দির, দ্বিতীয় শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ। শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে ভালো করে পড়াতে পারেন, সারাদিন যাতে মিড-ডে মিলের হিসেব না করতে হয়, তার জন্য শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করতে হবে। ল্যাবরেটরিতে লোক নিয়োগ করতে হবে, ঘণ্টা বাজানোর লোক নিতে হবে। মিত্র ইনস্টিটিউশনে সাপের কামড়ে এসএসকেএম যেতে হয়। কেন জানেন? তিন বছর কম্পোজিট গ্রান্ট পাননি। এটা দিয়েই কার্বলিক অ্যাসিড কেনা হয়। টাকার তো কোনও অভাব ছিল না। খেলা-মেলা, দুর্গাপুজোয় টাকা দেওয়া কোনও কিছুর তো অভাব ছিল না। এগুলো সরকারকে ভাবতে হবে। রামকৃষ্ণ মিশন তার বিদ্যালয়গুলির, যাঁরা পরিচালনা করেন, সেই মহারাজরা, আপনি কি আশা করেন, মহারাজরা খারাপ কিছু করতে পারেন? যিনি সব ত্যাগ করে এসেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে যে শিক্ষক আপনারা নিয়োগ করুন। যে ভুল আগে হয়ে গিয়েছে, যে আসল শিক্ষক, নকল শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী- অভিভাবকরা যখন প্রশ্ন তোলেন, তখন শিক্ষক শব্দের মর্যাদা থাকে না। ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেই। জায়গাগুলো অপরিষ্কার ছিল বলেই প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছ ভারত মিশন করছেন। তিনজন রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ শুধু নন, আইআইএম থেকেও একজনকে সদস্য হিসেবে রেখেছি। আমরা শিক্ষক নিয়োগ করে দেব নিশ্চিন্তে থাকুন। সুপ্রিম কোর্টর নির্দেশ, হাইকোর্টের নির্দেশ মাথায় রেখে করে দেব। কোনও অন্যায় হবে না। আমরা ইতিমধ্যেই বিধানসভায় ওবিসি বিল পরিবর্তন করে দিয়েছি। অন্যায়ভাবে যাদের ওবিসি করা হয়েছিল, তাঁদের বাদ দিয়ে দিয়েছি। ৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট খোলার পরে আমরা কোর্ট থেকে এক্সটি নিয়ে নিয়েছি। এসএসসি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমি বলেছি, মোবাইল ফোনে মেসেজ দিয়ে হয় না। তালিকা প্রকাশ করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও পরীক্ষাই একমাত্র বিচার্য বিষয় হবে। অন্য কিছু দরকার নেই। এত নম্বর মৌখিকে রেখেছেন কেন? নিজের লোক ঢোকাবেন বলে? আমি বলেছি ৫ নম্বরের বেশি থাকা উচিত নয়। পরামর্শ দিয়েছি এসএসসিকে। সংরক্ষণ বিধি মেনেই শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছি।’
এর পাশাপাশি স্কুলে পড়াকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহার করার উপরে রাজ্য সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে ইচ্ছুক বলে নিজের মত প্রকাশ করেও তাতে জনমত হারানোর আশংকা রয়ে গিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভয়ঙ্কর কুপ্রভাব মোবাইল ফোন। খুব কঠিন সিদ্ধান্ত। ভোট কমে যাবে আমার।
গুজরাট দেখুন ক্লাস ওয়ান থেকে ১২ ক্লাস পর্যন্ত মোবাইল হাত দিতে দেয় না ছাত্র-ছাত্রীদের। এইসব সংস্কার না করলে শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষক দিবসের মানে থাকবে না। কিছু জিনিস রয়েছে যার রাজনীতির লোকেদের ঢোকা উচিত নয়।’













































