ভারত নিউজ ২৪*৭
‘রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে। জীবনে কোন দুর্নীতি করিনি।’ সুইসাইড নোটে এমন বিস্ফোরক কথা লিখে আত্মহত্যা করলেন বীরভূমের রামপুরহাট থেকে পরপর পাঁচবার বিধানসভা নির্বাচনে যেতে বিধায়ক হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। বীরভূমের রামপুরহাটে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর মৃতদেহ! ইতিমধ্যেই এই মৃত্যু নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ওই কার্যালয় থেকে হাতে লেখা এক পাতার একটি ‘সুইসাইড নোট’ও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কিন্তু কী কারণে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এক জায়গায় লিখেছেন, ‘রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।’ তাহলে কি রাজনৈতিক চাপে ‘আত্মহত্যা’ করলেন তিনি? নাকি অন্য কোনও কারণ? পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের দুর্দিনের সঙ্গী ছিলেন এই আশিস। তৃণমূল কংগ্রেসের শুরুর দিন থেকে দলে ছিলেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীও হয়েছিলেন আশিস। এবারও বিধানসভা ভোটে রামপুরহাট কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে তিনি এবার আর জিততে পারেননি। আজ, রবিবার সকালে দেহ উদ্ধারের পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।
সুইসাইড নোটের দীর্ঘ লেখার ছত্রে ছত্রে উঠছে প্রশ্ন। আশিস লিখেছেন, “ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিনই কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানেও কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে। কখনও শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবন এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি।” তাহলে কি তাঁর উপর কোনও দুর্নীতির দায় চাপানো হচ্ছিল?
রাজ্যের পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস দু’ভাগে ভাগ হয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অনুব্রত মণ্ডলও ‘ভালো তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তবে বীরভূমের লালমাটির রাজনীতিতে অনুব্রতের বিরোধী শিবিরেই ছিলেন আশিস। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক জীবনে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম কোনও দুর্নীতিতে উঠে আসেনি বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। তাহলে কেন এবার দুর্নীতির প্রসঙ্গ টানলেন? তাহলে কি কোনও দুর্নীতির দায় তাঁর উপর চাপানো হচ্ছিল?
‘সুইসাইড নোটে’ আশিস আরও লিখেছেন, ”টিআরডিএ-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও দিন কেউ আলোচনা করেননি। আমাকে অপমান (ম্যালাইন) করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে।” শুধু তাই নয়, তাঁর বংশের কেউ যাতে রাজনীতিতে না আসেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী লিখেছেন, “আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যে থাক।”
রামপুরহাটের পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল আমলে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার পদও পান তিনি। তৃণমূল আমলের শেষ দিন পর্যন্ত বীরভূম জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্য়ান ছিলেন তিনি।
অনুব্রত মণ্ডলের জেলবন্দি সময়ে, বীরভূমে তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলের সংগঠন দাঁড়িয়ে ছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনে ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৪ হাজার ২৩৩ ভোটে পরাজিত করেন ধ্রুব সাহা।
বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার হয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে। পুলিশ সূত্রে দাবি, মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হয়েছে একটি নোট। এই গোটা ঘটনায় বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল বলছেন, ‘আশ্চর্য ব্যাপার। ভাবতে পারা যাচ্ছে। ওই লোকটা এত ভাল লোক। বউদি ভাল, ফ্যামিলি ভাল। কেন যে এই কাজটা করল বুঝতে পারছি না। কেন করল? ওর কোনও শত্রু নাই, ঝগড়া নাই। উনি কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটিতে যেত না। প্রচণ্ড দুঃখ… এই কাজটা কেন হল, কী জন্য হল। আমার সঙ্গে আশিস ব্যানার্জির বহু পুরনোকাল থেকে যোগাযোগ। গাইবাছুর থেকে পরিচয়। উনি খুব ভাল লোক, নিরীহ লোক, শান্ত লোক। ওনার সঙ্গে পরিচয় আজকের নয়। আশিস ব্যানার্জির মতো একজন লোক, একজন ব্যক্তিত্ব কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বলে আমার মনে হয় না।’
প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু। পুলিশ সূত্রে দাবি, দেহের পাশে উদ্ধার হয়েছে একটি নোটও। যেখানে লেখা রয়েছে, ছাত্রাবস্থা থেকেই আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সারাজীবনে এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি। কোনও আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে কখনও জড়িত হইনি। সর্বদা সব দলীয় অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। এককালে Tarapith Rampurhat Development Authority বা TRDA-র চেয়ারম্যান পদে ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি, সেই TRDA-তে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিজেপি। পালাবদলের পর শুরু হয় তদন্ত। পুলিশ সূত্রে দাবি, মৃতদেহের পাশে উদ্ধার হওয়া নোটে লেখা রয়েছে, TRDA-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। পুলিশ সূত্রে দাবি, উদ্ধার হওয়া নোটে আরও লেখা রয়েছে, আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করারই পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যেই থাক।















































