২২ অগস্ট ছিল ড্রাইভিং পরীক্ষা, তার আগেই নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে মর্মান্তিক পরিণতি সুমিত্রার; দেড় ঘণ্টার অভিযানে পুকুর থেকে উদ্ধার দেহ
ভারত নিউজ ২৪*৭
কলকাতা: মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। তারপর স্বামীর কেনা নতুন গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে বেরিয়েছিলেন ড্রাইভিং শেখার জন্য। কেউ ভাবেনি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই নতুন গাড়িই হয়ে উঠবে মৃত্যুর কারণ!
কেষ্টপুর [Kestopur]-এর পুকুরে আচমকাই পড়ে গেল গাড়ি। ভিতরে আটকে গেলেন সুমিত্রা দাস [Sumitra Das]। খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ ও দমকল। প্রায় দেড় ঘণ্টার মরিয়া চেষ্টার পর জল থেকে তোলা হয় গাড়ি। কিন্তু প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়নি সুমিত্রাকে।
মেয়েকে স্কুলে দিয়ে শুরু হয়েছিল সকাল
কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন [Prafulla Kanan] এলাকার বাসিন্দা সুমিত্রার বুধবারের সকালটা শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা দিনের মতোই।
মেয়েকে স্কুটিতে করে স্কুলে পৌঁছে দেন তিনি। এরপর স্কুটি রেখে স্বামী কৃষ্ণেন্দু দাস [Krishnendu Das]-এর কেনা নতুন গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন।
লক্ষ্য ছিল গাড়ি চালানোর অভ্যাস করা। কারণ, এখনও ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে পাননি সুমিত্রার। আগামী ২২ অগস্ট তাঁর ড্রাইভিং পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বেরোনোটাই যে জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
হঠাৎ পুকুরে গাড়ি!
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গাড়ি চালানোর সময় কোনওভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন সুমিত্রা।
সম্ভবত ব্রেক চাপার বদলে অ্যাক্সিলারেটরে পা পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি এগিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে পুলিশ।
তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও গাড়ির অবস্থাও খতিয়ে দেখছেন।
শুরু হল দেড় ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান
পুকুরে গাড়ি পড়ার খবর ছড়াতেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমে যায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও দমকলকে।
বাগুইআটি থানার পুলিশ [Baguiati Police Station] এবং দমকলকর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পুকুরের জলের মধ্যে গাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করে সেটিকে তোলার চেষ্টা শুরু হয়।
সময় গড়াতে থাকে। বাড়তে থাকে উদ্বেগও।
প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে জল থেকে গাড়িটি তোলা সম্ভব হয়। কিন্তু উদ্ধারকারীদের সামনে তখন অপেক্ষা করছিল আরও ভয়াবহ দৃশ্য।
গাড়ির ভিতরেই পাওয়া যায় সুমিত্রার নিথর দেহ।
শেষ মুহূর্তেও কি বাঁচার চেষ্টা?
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়ি উদ্ধারের পর সুমিত্রার অবস্থান দেখে মনে হয়েছে, তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন।
উদ্ধারের সময় তাঁর মুখ পিছনের দরজার দিকে এবং পা স্টিয়ারিংয়ের দিকে ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই অবস্থান থেকে তাঁর শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও, ঠিক কী ঘটেছিল তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই পরিষ্কার হবে।
দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
২২ অগস্টের পরীক্ষা আর দেওয়া হল না
মাত্র কয়েকদিন পরেই ছিল ড্রাইভিং পরীক্ষা। নতুন গাড়ি নিয়ে সেই পরীক্ষার প্রস্তুতিই করতে বেরিয়েছিলেন সুমিত্রা।
কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সবকিছু বদলে দিল। পরিবারে নেমে এল শোকের ছায়া।
কেষ্টপুরের এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, প্রশিক্ষণ ছাড়া গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কী কারণে গাড়িটি পুকুরে পড়ল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
সকালে মেয়েকে স্কুলে দিয়ে যে মা নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হল পুকুর থেকে—সুমিত্রার সেই শেষ যাত্রার ঠিক আগের মুহূর্তে কী ঘটেছিল, সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।















































