যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু অধিকারী, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং থাকবে নাকি আমরা থাকব’—কড়া হুঁশিয়ারি
ভারত নিউজ ২৪*৭
‘যাদবপুরে দীর্ঘদিন বিদেশি শক্তির প্রভাব ছিল। বিগত ৩৫ বছর ধরে সেই শক্তি যাদবপুর চালাত। দেশবিরোধী শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল যাদবপুরে। এরা দেশপ্রেম জানে না, নেতাজিকে তোজোর কুকুর বলেছিল বামেরা। রবীন্দ্রনাথকে অপমান করে সিপিএম।’ এভাবেই আজ শুক্রবার ১০ সহস্র কণ্ঠে বন্দেমাতরম পাঠের অনুষ্ঠান থেকে বিষ্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি কাণ্ডে যখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, তখন বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ৮বি বাসস্ট্যান্ডে সহস্র কণ্ঠে বন্দেমাতরম পাঠের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বিজেপির দক্ষিণ কলকাতার সংগঠন। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃষ্টিতে ভিজে বন্দেমাতরম পাঠ করে সভামঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই বক্তব্য রাখতে উঠেই হুঁশিয়ারি দেন তিনি। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যাদবপুরে টুকরে টুকরে গ্যাং রয়েছে। আমি হুঁশিয়ারি দিচ্ছি। হয় যাদবপুরে টুকরে গ্যাং থাকবে নয় আমরা থাকব।’
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদবপুর ক্যাম্পাসের ভেতরের নানা ঘটনা ও স্লোগান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ, বলিদানের কথা বলেন। তাঁর মুখে শোনা যায় নেতাজির লড়াই বা মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদানের কথাও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ‘দেশের বাইরে তো শত্রুরা আছে। দেশের ভিতর থেকে আমরা খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি কলকাতার রাস্তায় আজাদি, আজাদি। কীসের আজাদি ভাই? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ, নেতাজির লড়াই, মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান মনে রাখতে হবে। আমরা তো ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পেয়েছি।’ এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কাশ্মীর প্রসঙ্গেও। তাঁর কথায় উঠে আসে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগানের কথাও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যে কাশ্মীরের জন্য আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানের এত যুদ্ধ, লড়াই। আর আপনি কলকাতার রাস্তায় কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি লিখবেন? এ খুব পীড়াদায়ক।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কিষেনজির প্রসঙ্গও।
তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে বলেন, ‘সেন্টার ফর এক্সেলেন্স, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে কলাবিভাগের দেওয়ালে লিখবেন রেড স্যালুট কিষেনজি? কী শেখাচ্ছেন নতুন প্রজন্মকে?যাদবপুরে বিদেশি প্রভাব যুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল। যাদের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি থাকত না। যারা একসময় নেতাজি, কবিগুরুকেও আক্রমণ করেছিল। তারা যাদবপুরের তো সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে একটা মানসিকতা তৈরি করেছিল। যে মানসিকতায় স্বাধীনতা দিবস, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ, বাঙালি পরম্পরা। এই পরম্পরা থেকে বিচ্যুতি ঘটিয়েছিল বামেরা, পরে জামাতিদের শাসন। তাদের কাছে উর্দুকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াই ছিল এজেন্ডা।’

















































