ভারত নিউজ ২৪*৭
আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের সমস্ত বিজেপি শাসিত রাজ্যে চালু হবে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। আজ মুম্বই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষনা করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ তিনি জানান, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র শাসনে থাকা ২১ রাজ্যেই আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত পারিবারিক আইনগুলির ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
দেশের সমস্ত বিজেপি শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক এবং অপারেশন সিঁদুর-এর মতো সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একেবারে জিরো টলারেন্স নীতি প্রতিষ্ঠিত করেছে বর্তমান সরকার। শুধু তাই নয়, গত কয়েক দশকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ানো অনুচ্ছেদ ৩৭০ বিলোপ, নকশাল সমস্যার দমন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অশান্তি ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান করেছে কেন্দ্র।
প্রসঙ্গত ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গেও খুব তাড়াতাড়ি ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু করার জন্য রাজ্য মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে বিশেষ কমিটি। চলতি বছরেই খুব তাড়াতাড়ি পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হয়ে যাবে বলে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা ও খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য সম্প্রতি দিল্লির চাণক্যপুরীতে থাকা বঙ্গভবনে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করেছে রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ ইউসিসি কমিটি। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ আমলারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই বিশেষ কমিটির তৈরি করা খসড়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আলোচিত ইউসিসি বিলটি পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমের মতো যে সমস্ত রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ধরনের আইন কার্যকর বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, সেই মডেলগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দিল্লির এই প্রাথমিক বৈঠকের পরেই রাজ্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি তাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও রূপরেখা চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে।













































