চার মাসের লিভ-ইন সম্পর্কের শেষ এমন পরিণতি! নিউটাউনের আবাসনে তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন, খুন নাকি আত্মহত্যা—তদন্তে পুলিশ।
বাপ্পাদিত্য মন্ডল। ভারত নিউজ ২৪*৭।
নিউটাউনের (New Town) একটি আবাসনের দরজার ওপারে কী ঘটেছিল সেই রাতে? কেনই বা এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল, আর একই ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তৎপর পুলিশ।
সোমবার সকাল থেকে চণ্ডীবেড়িয়া (Chandiberia) এলাকাজুড়ে শুধুই এক আলোচনা—২৫ বছরের তৃষা সাহার (Trisha Saha) অস্বাভাবিক মৃত্যু। ব্যারাকপুরের বাসিন্দা এই তরুণী, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও পরিচিত মুখ ছিলেন, তাঁকে ফ্ল্যাটের ভিতর ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। একই ফ্ল্যাটে গুরুতর জখম অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গী সৌভিক রায়কে (Souvik Roy)। তাঁর হাতের শিরা কাটা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তে জানা গিয়েছে, দু’জনেই কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। অফিসে পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। কয়েক মাস আগে নিউটাউনের ওই আবাসনে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন তাঁরা। বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, ভিতরে কি বাড়ছিল সম্পর্কের টানাপোড়েন? সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের কেন্দ্রে।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার রাতে। বাড়ির মালিকের দাবি, হঠাৎ তাঁর কাছে ফোন আসে। বলা হয়, ফ্ল্যাটের ভিতরে বড় ঘটনা ঘটেছে এবং পুলিশে খবর দিতে হবে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন দরজা বন্ধ। একাধিকবার ফোন করার পর অবশেষে ভিতর থেকে দরজা খোলা হয়। তারপর যে দৃশ্য তিনি দেখেন, তা তাঁকে হতবাক করে দেয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, তৃষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র আত্মহত্যার তত্ত্বে এখনই পৌঁছতে রাজি নন তাঁরা। তৃষাকে মারধরের পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খোলা রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক রিপোর্ট এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, সৌভিকের হাতে যে গভীর ক্ষত রয়েছে, তা কীভাবে হল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। কোনও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছিল কি? নাকি নিজেই নিজের ক্ষতি করেছেন? সেই উত্তর মিলতে পারে তাঁর জবানবন্দিতে। তবে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলতে পারেননি তদন্তকারীরা।
বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, চার মাস ধরে ওই ফ্ল্যাটে থাকলেও কখনও বড় অশান্তি বা ঝগড়ার আওয়াজ শোনেননি তিনি। ফলে এই ঘটনার আকস্মিকতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে রহস্য।
এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও গুজবে কান না দিয়ে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা উচিত। কারণ এখনও পর্যন্ত কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, চ্যাট হিস্ট্রি এবং ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অফিসের পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের শেষ অধ্যায় কেন এমন করুণ পরিণতিতে পৌঁছল? নিউটাউনের সেই ফ্ল্যাটের চার দেওয়ালের মধ্যে ঠিক কী ঘটেছিল? ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং আহত যুবকের বয়ান সামনে এলে হয়তো মিলবে সেই উত্তর। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত রহস্য আরও ঘনীভূতই হচ্ছে।















































