‘দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত নয়’, আন্দোলনকারী ছাত্রদের কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর
ভারত নিউজ ২৪*৭
“বাংলার মাটিতে কোনওভাবেই দেশবিরোধী স্লোগান বা কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” দিল্লির মতো কলকাতাতেও যেভাবে নিট পরীক্ষায় স্বচ্ছতার দাবির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি এবং অতিবাম সংগঠনগুলি কলকাতার রাজপথে মিছিল করতে শুরু করেছেন তার বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সেই সঙ্গে আগামী ১০ সপ্তাহের মধ্যে বাংলার মাটি থেকে সমাজবিরোধী ও দেশবিরোধী যাবতীয় কার্যকলাপ নির্মূল করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের সরকার কাজ করবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৫ আগস্ট স্বাধীনতা এবং ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে হবে। বাংলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মাটি। এই মাটিতে কোনওরকম দেশবিরোধী বা উল্টোপাল্টা কার্যকলাপ চলবে না। দেশবিরোধী শক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উপড়ে ফেলবে এই সরকার। মাত্র ১০ সপ্তাহ হয়েছে। আগামী দিনে আরও অনেক কিছু দেখতে পাবেন। সবক শেখাব। এই মাটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের, ঋষি অরবিন্দের মাটি। এখানে কোনও উল্টোপাল্টা কাজ চলবে না।”
প্রসঙ্গত দেশবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য যাদবপুর হোস্টেল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের ভয় দেখিয়ে বের করে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী গতকাল। গতকাল সন্ধ্যায় হুগলির গুপ্তিপাড়ায় একটি রথযাত্রার অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতবর্ষে সুমহান গণতন্ত্র আছে। কেউ যৌক্তিক আন্দোলন করলে, সরকার সেটা দেখবে। কিন্তু অন্য কারও কোনও উদ্দেশ্য থাকলে, বিনা নির্বাচনে সেটা সম্ভব নয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।
গণতান্ত্রিক মিছিল মিটিং করলে অসুবিধা নেই। কিন্তু হোস্টেল থেকে জোর করে ছাত্র-ছাত্রীদের বের করলে। গত পরশুদিন যাদবপুরে হয়েছে। আমাকে হোস্টেলের স্টুডেন্টরা বলেছে, আমরা যেতে চাইনি। আমাদেরকে বাধ্য করিয়েছে। আমি আজকে ভিসিকে বলেছি, যাদবপুরের ভিসির সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়েছে। এদেশ গণতান্ত্রিক দেশ, বাক স্বাধীনতা আছে। কিন্তু হোস্টেলের ছেলেদের জোর করে এইসব করা যাবে না। মিছিল মিটিং তো আমরা অ্যালাউড।”
নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে আজ একদিকে যেমন আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে যেভাবে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার বৈঠকে বসেছে এবং সমস্যা সমাধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেটাই যাবতীয় সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ বলে দাবি করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গোটা দেশ মোদিজির উপর ভরসা রাখে, আমাদেরও রাখা উচিত। প্রধানমন্ত্রী যা করছেন, সকলের জন্যই করছেন। বিশেষ করে যুবসমাজের স্বার্থে তিনি যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তার উপর দেশের মানুষের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”















































