টলিউডের গণ্ডি ভেঙে নতুন ইনিংস মধুমিতা সরকারের। একদিকে বাংলাদেশের বড় প্রজেক্ট, অন্যদিকে দক্ষিণী ছবিতে ডেবিউ—সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল উন্মাদনা।
ভারত নিউজ ২৪*৭
বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী (Madhumita Sarcar) যেন একসঙ্গে দুই ইন্ডাস্ট্রিতে বাজিমাত করতে চলেছেন। টলিউডের পরিচিত মুখ এবার শুধু কলকাতার (Kolkata Entertainment) দর্শকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। একদিকে বাংলাদেশের মূলধারার সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, অন্যদিকে তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে (Telugu Cinema) বড়সড় অভিষেক—সব মিলিয়ে মধুমিতাকে ঘিরে এখন তুমুল চর্চা।
তার উপর চমকের শেষ এখানেই নয়। প্রথম তেলুগু ছবিতেই তাঁর বিপরীতে দেখা যাবে ‘বাহুবলী’-খ্যাত অভিনেতা (Rakesh Varre)-কে। নতুন ছবির ফার্স্ট লুক প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনুরাগীদের একটাই প্রশ্ন—এবার কি দক্ষিণী দর্শকদেরও মন জয় করবেন বাংলার ‘পাখি’?
বর্তমানে বাংলাদেশে (Bangladesh Film Industry) পরিচালক মহম্মদ ইকবালের নতুন ছবি ‘গুলশানের চামেলি’-র শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন মধুমিতা। এই ছবিতে তিনি এক সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করছেন। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সমাজের প্রান্তিক এক নারীর জীবনসংগ্রাম। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সিনেমায় এটিই তাঁর প্রথম কাজ, তাই শুরু থেকেই এই প্রজেক্ট ঘিরে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে।
এর মধ্যেই সোমবার সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে আরও একটি বড় সুখবর ভাগ করে নেন অভিনেত্রী। প্রকাশ্যে আসে তাঁর প্রথম তেলুগু ছবি ‘মায়া লেডি’ (Maya Lady)-র অফিসিয়াল ফার্স্ট লুক। পোস্টারেই ধরা পড়েছে সম্পূর্ণ নতুন অবতারে মধুমিতা। গ্ল্যামার, রহস্য আর স্টাইল—সব মিলিয়ে নতুন লুক ইতিমধ্যেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছেন অভিনেতা ও প্রযোজক রাকেশ ভারে। যদিও তিনি একাধিক তেলুগু ছবিতে অভিনয় করেছেন, তবু সারা দেশে তাঁর পরিচিতি আসে এস. এস. রাজামৌলির ব্লকবাস্টার ‘বাহুবলী’ সিরিজে ‘সেতুপতি’ চরিত্রে অভিনয়ের পর। নিষ্ঠুর, ক্ষমতালোভী সেই চরিত্র এখনও দর্শকদের মনে দাগ কেটে রয়েছে।
তবে ‘মায়া লেডি’-তে একেবারে অন্য রূপে দেখা যাবে তাঁকে। পরিচালক প্রশঙ্করের এই ছবি মূলত একটি রোমান্টিক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। প্রেমের আবহের সঙ্গে রয়েছে রহস্য, সাসপেন্স, অ্যাকশন এবং একাধিক অপ্রত্যাশিত মোড়। নির্মাতাদের দাবি, দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছে সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের সিনেমা।
ছবিটি প্রযোজনা করছে রাকেশ ভারের নিজস্ব সংস্থা ক্রেজি অ্যান্টস প্রোডাকশন। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন জনপ্রিয় সুরকার বিশাল চন্দ্রশেখর। ফলে ছবির গান এবং ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর নিয়েও ইতিমধ্যেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ছবিটির প্রথম নাম ছিল ‘ওকে ওকা আশা’। পরে গল্পের আবহ ও চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাম বদলে রাখা হয় ‘মায়া লেডি’। চলতি বর্ষাতেই ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ছোটপর্দার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ ধারাবাহিকের ‘পাখি’ চরিত্র দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া মধুমিতা এরপর বড়পর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
‘চিনি’, ‘কুলের আচার’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই আরও বড় ক্যানভাসে নিয়ে যেতে চাইছেন অভিনেত্রী।
বাংলা, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি—তিনটি ভিন্ন দর্শকগোষ্ঠীর সামনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই সুযোগ নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় অধ্যায় হতে চলেছে। বিনোদন মহলের একাংশের মতে, এই দুই নতুন প্রজেক্ট সফল হলে মধুমিতার জন্য আরও বড় বাজেটের সর্বভারতীয় ছবির দরজাও খুলে যেতে পারে।
এখন গোটা নজর ‘মায়া লেডি’ এবং ‘গুলশানের চামেলি’-র দিকে। টলিউডের ‘পাখি’ কি সত্যিই দক্ষিণী আকাশেও উড়বে? নাকি এই ডাবল চ্যালেঞ্জই বদলে দেবে মধুমিতা সরকারের কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ? উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।




















































