ভারত নিউজ ২৪*৭
‘দয়া করে ফিরে আসুন। এখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’ এভাবেই বৃহস্পতিবার নিউটাউনে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার অফিস উদ্বোধন করে পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যেসব দক্ষ ও মেধাবী রাজ্যবাসী বাংলা ছেড়ে বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ বা অন্য কোনও রাজ্যে চলে গিয়েছেন তাঁদের পুনরায় রাজ্যে ফেরার বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজ করতে চলে যান। কারণ এখানে সেভাবে কাজের সুযোগ পান না তাঁরা বলে অভিযোগ। আবার এখানে বড় শিল্প নেই বলে বহু মেধাবী যুবক-যুবতীকে ভিন রাজ্যে গিয়ে কাজ করতে যেতে হয়। অনেকে আবার বিদেশেও পাড়ি দেন। ফলে পরিবার-পরিজনকে ছেড়ে অন্যত্র কাজ করতে হয়। সেখানে নানা সমস্যা থেকে শুরু করে বিপদে পড়তে হয়। তখন তাঁরা পরিবারকে পাশে পান না। আর পরিবারও পাশে থাকতে না পেরে উৎকণ্ঠায় দিন কাটান। এই পরিস্থিতি কাটাতেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন।
বৃহস্পতিবার নিউটাউনে এল অ্যান্ড টির অফিস উদ্বোধন করে এমনই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। অফিস উদ্বোধনের পরে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘রাজ্যের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডবল ইঞ্জিন সরকার। এই ক্যাম্পাস একটি বার্তা বহন করছে। আবার পশ্চিমবঙ্গ শীর্ষ স্থানে যেতে পারে। ডবল ইঞ্জিন সরকার রাজ্যে কর্মসংস্থান তৈরিতে বদ্ধপরিকর। ছোট শিল্প উদ্যোগকে সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। রাজ্যে আরও বিনিয়োগ হবে।’
সেই সঙ্গে রাজ্যের অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই নতুন ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলে বৃহস্পতিবার জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে বড় বিনিয়োগ আনা এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। কলকাতার উত্তর প্রান্তে নিউ টাউনে একটি জাতীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর নতুন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রূপান্তরের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত করাই নতুন ডাবল-ইঞ্জিন সরকারের লক্ষ্য। আর অর্থনৈতিক রূপান্তরের সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে রাজ্যে বড় বিনিয়োগ আনার জন্য বিনিয়োগকারী ও শিল্পপতিদের প্রয়োজন মেটাতে দুই হাত বাড়িয়ে সহযোগিতা করতে আমি প্রস্তুত।’
নতুন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রটি প্রায় ৫,৮০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর লক্ষ্য শুধু রাজ্য থেকে প্রতিভাবানদের অন্যত্র চলে যাওয়া আটকানো নয়, কর্মসংস্থানের জন্য বাইরে চলে যাওয়া বাংলার দক্ষ ও মেধাবী যুবকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ এমনকি বিদেশে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের উচ্চদক্ষ ও প্রতিভাবান যুবকদের একদিন রাজ্যে ফিরে আসার পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফিরে আসুন। এখানে ডাবল-ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন এই বার্তাই দিয়েছে যে শিল্পবান্ধব ও শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের অতীত গৌরব পুনরুদ্ধারের এখনও সুযোগ দিতে পারেনি। তিনি বলেন, রাজ্যে কর্মসংস্থান তৈরিতে ডাবল-ইঞ্জিন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ছোট শিল্পোদ্যোগগুলিকেও সরকার সহায়তা করবে। আগামী দিনে রাজ্যে আরও বিনিয়োগ আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আহ্বান, ‘রাজ্যে দক্ষতা সম্পন্ন কর্মীর কোনও অভাব নেই। আগের সরকার যোগ্যদের সম্মান দিতে পারেনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। যুব সমাজকে আর রাজ্য ছাড়তে হবে না। বাংলার পুনর্গঠনে ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আশা করি পশ্চিমবঙ্গে আরও বিনিয়োগ হবে। পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। তাই দয়া করে ফিরে আসুন।’
আগামীকাল রাখীবন্ধন উপলক্ষে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে চার হাজার অনুষ্ঠান হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই বছরের রাখীবন্ধন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, তাকে দেশপ্রেমের অনুষ্ঠান বলে চিহ্নিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বারের রাখীপূর্ণিমা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এ বছর পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাখীবন্ধনকে দেশপ্রেমের বন্ধন হিসেবে উদযাপন করবে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কোটি কোটি মানুষ হাতে হাত রেখে শপথ নেবে।’
















































