নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও বিপর্যয়, উদ্ধার দুর্গাপুরের এক বাসিন্দা; মানস সরোবরের পথে নিখোঁজ শর্মিষ্ঠা, নবান্নে কন্ট্রোল রুম
ভারত নিউজ ২৪*৭
নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপদের মুখে আটকে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটক। পাহাড়ে আচমকা নেমে আসা হড়পা বানের তোড়ে বহু এলাকা বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজ্য থেকে যাওয়া বেশ কয়েক জন পর্যটকের নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলছে। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়ের মধ্যে ৭১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে কলকাতার একটি ট্রাভেল ক্লাবের সঙ্গে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া ৩০ পর্যটক রয়েছেন। খোঁজ নেই ওই দলের দুই ম্যানেজারেরও। তাঁদের সঙ্গে শেষ বার যোগাযোগ হয়েছিল বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ।
‘চলো যাই’ নামে কলকাতার ওই ট্রাভেল ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে, ৩০ জনের দলে এক আমেরিকা-প্রবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। দলে আছেন কলকাতার কসবার কয়েক জন বাসিন্দা। এছাড়া, চন্দননগর এবং বারাসতের কয়েক জন পর্যটকও নেপালে আটকে পড়েছেন বলে খবর। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও মেলেনি।
নিখোঁজ দলের এক সদস্য, যিনি দুর্গাপুরের বাসিন্দা, মৌসুমী গঙ্গোপাধ্যায়কে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁর স্বামী-সহ দলের বাকি ৩১ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নবান্নে কন্ট্রোল রুম ও জরুরি হেল্পলাইন
রাজ্যের পর্যটকদের এই বিপদের খবর আসামাত্রই তৎপর হয়ে উঠেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং ঘটনার ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখছেন এবং নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। নবান্নে খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম। নেপালে থাকা ভারতীয় দূতাবাস এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে সমন্বয় রেখে রাজ্যের ৩২ জন নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করা হচ্ছে। দুর্গত পরিবারগুলোকে দ্রুত তথ্য ও সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং ভারতীয় দূতাবাসের তরফে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হেল্পলাইন নম্বর: ০৩৩-২৪৭৯ ৩৩১১ এবং 9147890181। ভারতীয় দূতাবাস (কাঠমান্ডু, নেপাল) +৯৭৭৯৮৫১৩১৬৮০৭ এবং +৯৭৭৯৭০৯১০৭৫০০) আটকে পড়া সমস্ত পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং পরিবারগুলোকে সব ধরণের সাহায্য দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্যের ৩২ জন পর্যটক এখনও নিখোঁজ বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ওই পর্যটকদের অধিকাংশই কলকাতা ও চন্দননগরের বাসিন্দা। একটি নির্দিষ্ট পর্যটন সংস্থার মাধ্যমেই তাঁরা নেপালে গিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে রাজ্য সরকার খোঁজখবর নিচ্ছে। বুধবার রাত থেকেই নবান্নে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকে নিয়মিত ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। নেপাল সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে সাত-আট জনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা হয়েছে। রাজ্য সরকার ওই পর্যটকদের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকম সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ
এই নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকাতেই উঠে এসেছে তৃণমূলের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত মুকুল রায়ের পুত্র বধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের নাম। ভয়াবহ এই ঘটনার পর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবার কোনোভাবেই আর যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বামী তথা প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ অগাস্ট কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা।
৩২ জন পর্যটকের ওই বিশেষ দলটির গন্তব্য ছিল পবিত্র কৈলাস-মানস সরোবর। শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, শর্মিষ্ঠা একাই এই তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের সন্তানরা শুভ্রাংশুর সঙ্গেই কলকাতায় রয়েছে। গত বুধবার দুপুরেও স্ত্রীর সঙ্গে শেষ বার মোবাইলে কথা হয়েছিল শুভ্রাংশুর। সেই সময় শর্মিষ্ঠা জানিয়েছিলেন যে তাঁরা মানস সরোবর অভিমুখে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু এর পরেই নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় বিধ্বংসী বন্যায় রাস্তাঘাট ভেসে যায়। ঘটনার পর থেকেই শর্মিষ্ঠা-সহ পুরো দলটির সঙ্গে সব সংযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার চরম গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে তড়িঘড়ি উদ্যোগ নিয়েছে ‘চলো যাই’ কর্তৃপক্ষ। দ্রুত উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে এবং নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান বের করতে ইতিমধ্যেই ট্রাভেলসের চারজন বিশেষ প্রতিনিধি নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
















































