ভারত নিউজ ২৪*৭
“আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই মূলধারার রাজনীতিতে এসেছি এবং প্রথম থেকেই তাঁর সঙ্গেই ছিলাম। মমতার দেওয়া প্রতীকে লড়াই করেই আমি বিধায়ক হয়েছি। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” এভাবেই প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডেমোক্রেটিক তৃণমূল ছেড়ে মমতার তৃণমূলে ফিরে এলেন রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, দল যে আন্দোলন ও নির্দেশ দেবে, আমি তৃণমূল কর্মী হিসেবে সবসময় মমতার পাশে দাঁড়িয়ে তা পালন করব।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরোনোর পরে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল জিতেছিল ৮০ বিধানসভা আসনে। কিন্তু বিজেপি রাজ্যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করার পরেই তৃণমূলের টিকিটের বিজয়ী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাকে প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে মান্যতা দিয়ে মমতার নেতৃত্ব অস্বীকার করেন প্রায় ৬০ বিধায়ক। এই দলেই ছিলেন প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী রথীন ঘোষ। গত রবিবার একটি জনসভায় তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখার সময় কল্যাণের ফোনে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ছেড়ে যাওয়া জনপ্রতিনিধি নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে কার্যত ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হলে আমাদের শক্তিশালী করুন। যাঁদের আপনারা কষ্ট করে জিতিয়েছেন, তাঁদের টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছে। এরা বেইমান, এরা গদ্দার, এরা বিশ্বাসঘাতক, এদের কোনও ক্ষমা করবেন না। যাঁরা ফিরতে চান, তাঁদেরকে বলব ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসতে হবে। যদি না পারেন আমরা লড়ে নেব।
ঘটনাচক্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা করা ১৫ দিনের ডেডলাইনের মধ্যে মাত্র চার দিনের মধ্যেই মমতার তৃণমূলে ফিরে আসার কথা ঘোষণা করলেন রথীন ঘোষ। কিছুদিন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফেরার কথা ঘোষণা করেছিলেন আমডাঙার তৃণমূল বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকি৷ তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পরে হঠাৎ করে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লড়াই করার কথা মমতার সেই ১৫ দিনের দেড় লাইন বেঁধে দেওয়ার জন্যেই কিনা জিজ্ঞাসা করাতে রথীন ঘোষের কৌশলী জবাব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী হিসেবে আছেন৷ উনি ১৫ দিনের সময়সীমা বাঁধবেন কেন৷ আমরা তো বলিনি যে কোথাও গেছি৷ প্রসঙ্গত, মমতা তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ঋতব্রত শিবিরের যে ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আর্জি জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন রথীন ঘোষও৷ ফলে তাঁর এ দিনের বক্তব্য সেই আইনি জট এড়ানোর উদ্দেশেই করা কি না, তা নিয়েও জল্পনা ছড়িয়েছে৷
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন তৃণমূল তৈরি হয়েছে বলে যে প্রচার চলছে অথবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিষ্ঠা করার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মালিকানা দাবি করে ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা লড়ছেন তা কার্যত উড়িয়ে দিয়ে রথীন ঘোষ বলেন, ঋতব্রত তৃণমূল বলে আলাদা কোনও দল বা শিবিরের অস্তিত্ব আমি স্বীকার করি না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
রথীন ঘোষের এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূলের প্রবীণ নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে কোনও বাস্তব রাজনৈতিক সংগঠন বা জনগণের সমর্থন নেই। বিলম্বে হলেও এখন সবাই সেটা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই সবাইকে একসঙ্গে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ঋতব্রতর সঙ্গে থাকার অর্থ হলো গদ্দারি বা বেইমানি করা। রথীনবাবু নিজের ভুল বুঝতে পেরে সত্যটি উপলব্ধি করেছেন।















































