ভারত নিউজ ২৪*৭
যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে যখন দিল্লি জুড়ে রাজনৈতিক আবহ উত্তাল হয়ে উঠেছে সেই প্রেক্ষিতে শনিবার সকালেই তৃণমূলের পাঁচ সংসদ সহ গ্রেফতার হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেত্রীকে সাধারণ প্রিজন ভ্যানে বসিয়ে প্রায় ঘন্টা দেড়েকের বেশি দিল্লির বিভিন্ন গলিতে গলিতে ঘুরিয়ে বসিয়ে রাখা হয় দ্বারকাতে। দ্বারকা সেক্টর ২৩ পুুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাকিদের।
শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দিল্লিতে আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য বেরিয়ে আটক হন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী থেকে শুরু করে দেশের প্রথম সারির অসংখ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব। একদিনেই দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। এর আগে কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে সরাসরি কোনও থানায় না নিয়ে গিয়ে, দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানো হয়।
যন্তর মন্তরে যেতে না পেরেই, আজ দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন দোলা সেন, সাকেত গোখলে, শামিরুল ইসলাম, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। দিল্লি পুলিশ এসে তাঁদের সরতে বলেন। দিল্লিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় পাঁচজনের বেশি জমায়েত করা যাবে না। এই কারণ দেখিয়েই ধর্না প্রত্য়াহার করতে বলা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু তারপরও ধর্নায় বসে থাকেন মমতা ও তৃণমূলের বাকি সদস্যরা। এরপরই আটক করা হয় তাঁদের। জোর করে তাদের পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়।
মমতা দাবি করেন, নির্দিষ্ট কোথাও না নিয়ে গিয়ে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তুলে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে দিল্লির বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়েছে পুলিশ। গাড়ি থেকেই কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি ‘জাগো দুর্গা’ ও ‘আঁখো মে ভর লো পানি’র মতো একাধিক গান গেয়ে প্রতিবাদ জানান। সূত্রের খবর, আজই ফেরার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু সোমবার আরও বড় ‘প্ল্যান’ তাঁর। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘অপহরণ করে প্রিজন ভ্যানে করে দুই ঘণ্টা ধরে ঘোরানো হল। আজ রাতে আমি কলকাতায় ফিরছি না। বরং সোমবারের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের মিছিলে যোগ দেব।’ বলে রাখা প্রয়োজন, আজ শনিবারই দিল্লি ফিরে আসার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ থানায় আটক থাকার ফলে বিমান ধরা সম্ভব হয়নি তাঁর। এরপরেই দিল্লিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার দিল্লিতে বিরোধী দলের একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রিজন ভ্যান থেকেই প্রতিমা মণ্ডল ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, ‘আমাদের কয়েদির মতো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানিনা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে বলব, দিদি আপনাদের সঙ্গে রয়েছে। আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনাদের অধিকার রক্ষার জন্য দিদি যা লড়াই করে চলেছে, সকলে তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতেই দেওয়া হয়নি। দিল্লিতে আজ সকাল থেকে যে গণতন্ত্র হত্যা করার যে একটা প্রচেষ্টা চলছে, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের পরিবেশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতে দেবে না, এটা আগে থেকেই ঠিক ছিল। বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে। তীব্র নিন্দা করছি। প্রতিবাদটাও করতে দেবে না। বাংলার অগ্নিকন্যাকে দিল্লিতে আটক করা হল, প্রতিবাদ করতে দেওয়া হল না, এরপর বিজেপি যেন গণতন্ত্রের কথা না বলে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটক হতেই কংগ্রেস তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের পাশে আছে কংগ্রেস।’















































