ভারত নিউজ ২৪*৭
‘বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। এখন বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫ জন সমর্থন দেবে।’ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯ হলেও এই মুহূর্তে ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫ বিধায়কের সমর্থন পাওয়া যাবে বলে বিষ্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পাল্টা আক্রমণে নেমেছে সিপিএম ও তৃণমূলের দুই শিবিরও।
বিধানসভার সংখ্যার হিসাব তুলে ধরে ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দুর দাবি, ‘টক শোয়ের এক বিজ্ঞ-জ্ঞানী তো বলেছিলেন, বিজেপি ১৫০ আসনে লড়ছে। বিজেপি তো ২০৯ হয়ে গিয়েছে। এখন বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫ জন সমর্থন দেবে।’ কীভাবে ২০৯ থেকে সংখ্যাটা ২৭৫-এ পৌঁছবে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রধান বিরোধী শিবিরের ৬৪ জন বিধায়ক তাঁর সমর্থনে হাত তোলার জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষকে দেখিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর এই মন্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিরোধী শিবিরের অন্দরে কি কোনও ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে? তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা বিধায়কদের একাংশকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে। সংশ্লিষ্ট শিবিরের দাবি, তাদের সঙ্গে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক। অন্যদিকে, বিজেপির দিকে তাঁদের ঝুঁকে পড়ার অভিযোগও উঠেছে বারবার।
কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরও এই সুযোগে ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ তাঁদের ‘বিজেপির দালাল’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, বিরোধী ভোটে জিতলেও ওই শিবিরের বিধায়কেরা বিজেপির দিকে ঝুঁকে রয়েছেন বলেই মুখ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে কুণালের পাল্টা চ্যালেঞ্জ, বিধানসভায় গোপন ব্যালটে ফ্লোর টেস্ট করানো হোক। তাতেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবির সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৭-এ চোরবাগানের পুনরাবৃত্তি হবে না
এবারের পুজোয় প্রথম সপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা রাজ্যবাসীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। আগামী দিনে যাতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তার জন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোর অনেক আগে থেকেই এই বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তাঁর বক্তব্য, চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে রাজ্য সরকার। ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে যাতে আর এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চোরবাগান দুর্ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আনন্দের মধ্যে বেদনা হয়েছে। চোরবাগানে মানুষের ভুলে বেশ কয়েকজনকে হারাতে হয়েছে। তার তদন্ত হবে। ২৫ জনকে সুস্থ করা হয়েছে। মৃত বাংলার ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি গিয়েছি। ২৩-২৪ তারিখের মধ্যে ৬ জনের বাড়ি যাব। মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। তবুও সরকারের কিছু দায়িত্ব থাকে। সে দায়িত্ব পালন করেছি। এই ঘটনা যাতে আর না ঘটে, এই অঙ্গীকার নিতে চাই।’ চোরবাগানের ঘটনার পাশাপাশি শ্যামপুরের অতীতের অশান্তির প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘যারা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিল, তাদের প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে। যাঁরা দুর্গাঠাকুর ভেঙেছিলেন, তাঁদের মা দুর্গা ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।’
৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান
রাজ্যে কর্মসংস্থানের বিষয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন তিনি। আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছতার সঙ্গে। এ ছাড়াও বিকশিত ভারত-ভিবি জি রাম জি প্রকল্পে পঞ্চায়েতগুলিকে আরও সক্রিয় হওয়ার আবেদন জানান শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ছ’মাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতকে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে ৩৭০ ধরনের কাজ করা সম্ভব। তাই স্থানীয় এলাকার উন্নয়নে আরও বেশি কাজ হাতে নেওয়া উচিত। আবাস যোজনার পরবর্তী ধাপে ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি।
















































