রামনগরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সহায়তার চেক, পরিবারের একজনের চাকরির আশ্বাসও সরকারের
ভারত নিউজ ২৪×৭ ডিজিটাল ডেস্ক
গভীর সমুদ্র থেকে আর কেউ ফিরবেন না। সেই শোক এখনও তাজা শঙ্করপুরের উপকূলে। এক মুহূর্তে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন বহু মানুষ। সেই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার।
রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর-১ ব্লক অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৫ জন মৎস্যজীবীর পরিবারের হাতে প্রতি পরিবারকে ₹৫ লক্ষ করে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবারগুলির অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে রাজ্য পুলিশের হোমগার্ড বা সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল দুর্ঘটনার ধাক্কা সামলে পরিবারগুলিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া।
প্রসঙ্গত, এই ঘোষণা প্রথম করা হয়েছিল বিধানসভায়। তখনই জানানো হয়েছিল, শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেক মৎস্যজীবীর পরিবারকে ₹৫ লক্ষ করে আর্থিক সহায়তা এবং একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। রবিবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পেল।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুলাই। শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে ‘জয় মা কালী’ নামে একটি ট্রলার ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে রওনা দেয়। কিন্তু সমুদ্রে আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। এরপর ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বকখালি সংলগ্ন বাঘেরচর এলাকার গভীর সমুদ্রে উল্টে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান মেলে। উদ্ধারকারী দল একাধিক দেহ উদ্ধার করলেও দীর্ঘদিন তল্লাশি চালিয়েও সকলের খোঁজ মেলেনি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে শঙ্করপুর ও পার্শ্ববর্তী উপকূল এলাকা।
মৎস্যজীবী সংগঠনের একাংশের বক্তব্য, আর্থিক সহায়তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সমুদ্রে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবহাওয়ার আগাম সতর্কীকরণ এবং ট্রলারগুলিতে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা দরকার।
উপকূল অঞ্চলের বাসিন্দাদের একাংশও মনে করছেন, ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনাই হতে পারে এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
শঙ্করপুরের সেই কালো দিনের স্মৃতি হয়তো কোনওদিন মুছে যাবে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে সরকারি সহায়তা পৌঁছে যাওয়ায় অন্তত নতুন করে বাঁচার লড়াই শুরু করার একটা ভরসা মিলল। এখন নজর, উপকূলের মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে প্রশাসন আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।















































