নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাস্তা দখল, বেআইনি পার্কিং ও তোলাবাজি—একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে কড়া বার্তা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
ভারত নিউজ ২৪*৭
‘রাস্তা আপনার ব্যক্তিগত জায়গা নয়।’ নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাস্তা আটকে রাখা, বেআইনি পার্কিং কিংবা নিয়ম না মেনে নির্মাণ—কোনওটাই আর বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল [Agnimitra Paul]। শনিবার সল্টলেক [Salt Lake]-এ নাগরিকদের সঙ্গে ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচির পর একাধিক বিষয়ে কার্যত কড়া অবস্থানের কথা জানালেন তিনি।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, রাস্তার উপর যেখানে-সেখানে পাথর, বালি বা সুরকি ফেলে রাখার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। নির্মাণকার্য চললেও তার জেরে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা আটকে দেওয়া যাবে না। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট বিল্ডারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জরিমানা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “এটা আপনার রাস্তা নয়। শুধরে যান। এখনও সময় আছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
‘মুখোমুখি’ কর্মসূচিতে নাগরিকদের দরবারে মন্ত্রী
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের স্থানীয় সমস্যাগুলি সরাসরি শোনার উদ্যোগ নিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। সেই কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুখোমুখি’ [Mukhomukhi Civic Grievance Programme]।
এর আগে কলকাতা [Kolkata] এবং শিলিগুড়ি [Siliguri]-তে এই উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। শনিবার পালা ছিল বিধাননগর পুরনিগম [Bidhannagar Municipal Corporation] এলাকার।
দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত সল্টলেক [Salt Lake]-এ নির্ধারিত কর্মসূচিতে এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতেও তিনি এলাকায় এসে মানুষের অভিযোগ শুনবেন। তবে পরবর্তী সফরের দিন এখনও নির্দিষ্ট হয়নি।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, আপাতত কর্পোরেশন এলাকাগুলিতে এই উদ্যোগ চলছে। ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাতেও ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচি চালু করা হবে। বরানগর পুরসভা [Baranagar Municipality]-তেও এই কর্মসূচি শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রাস্তা দখল নিয়ে এবার কড়া নজর?
শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার একাংশ দখল করে রাখার অভিযোগ নতুন নয়। বালি, পাথর, ইট বা সুরকি দিনের পর দিন রাস্তায় পড়ে থাকলে যান চলাচল যেমন ব্যাহত হয়, তেমনই সমস্যায় পড়েন পথচারীরাও।
এই পরিস্থিতিতেই অগ্নিমিত্রার বার্তা—নিয়ম মেনে নির্মাণ করতে হবে এবং জনসাধারণের রাস্তা কোনওভাবেই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
স্থানীয় স্তরে এমন অভিযোগ থাকলে পুরসভা ও প্রশাসনের নজরে আনার কথাও গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে আগামী দিনে নির্মাণ সামগ্রী রাখার ক্ষেত্রে পুর প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার।
বেআইনি পার্কিং নিয়েও কড়া বার্তা
শুধু নির্মাণ সামগ্রী নয়, রাস্তার উপর বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন পুরমন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, রাতে অনেক জায়গায় রাস্তায় বাস দাঁড়িয়ে থাকে। যাঁদের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, তাঁদেরও বাড়ির বদলে রাস্তার উপর গাড়ি রাখার প্রবণতা রয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—পার্কিংয়ের জায়গা ব্যবহার করতে হবে, রাস্তা দখল করে গাড়ি রাখা চলবে না।
এক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙলে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তার দিকেও নজর থাকবে।
পুরবোর্ড ও রাজনৈতিক উত্তাপ
একাধিক পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া প্রসঙ্গেও এদিন মন্তব্য করেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর দাবি, তৃণমূল [Trinamool Congress]-এর বহু কাউন্সিলর সরে যাওয়ায় কোথাও কোথাও পুরপ্রশাসক বসিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। বর্ষার সময় নাগরিক পরিষেবায় যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর পাশাপাশি দলের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান পুরমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্য সভাপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীও দুর্নীতি, তোলাবাজি ও দাদাগিরির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
সব মিলিয়ে শনিবারের ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচি শুধু নাগরিক অভিযোগ শোনার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকল না। রাস্তা দখল, নির্মাণ সামগ্রী, বেআইনি পার্কিং থেকে শুরু করে পুর প্রশাসনের কাজ—একাধিক বিষয়ে অগ্নিমিত্রার বার্তা যথেষ্ট স্পষ্ট।
এবার প্রশ্ন একটাই—হুঁশিয়ারির পর কি সত্যিই রাস্তায় নামবে কড়া অভিযান, নাকি ফের নিয়মভাঙার ছবিই দেখা যাবে শহর ও শহরতলির রাস্তায়?
















































