ভারত নিউজ ২৪*৭
পুলিশ সুপার এই জেলা থেকে সমস্ত অসাধু কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় সীমান্তে ফেন্সিং হয়ে যাবে। কোনও অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আর ঢুকবে না। আজ মহা পঞ্চমীর দিন মুর্শিদাবাদের লালবাগে দুর্গাপুজো উদ্বোধন করতে গিয়ে এভাবেই সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করার হুংকার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি জানান, এই জেলায় বিএসএফ এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছেন, এটা আগে ছিল না। বিএসএফকে আমরা সীমান্তে ফেন্সিং করার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই দিয়েছি। নিষিদ্ধ কিছু কাফ সিরাপ,হেরোইন ,গাঁজা পাচার করে কিছু লোক পরিবেশ নষ্ট করছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। ১৮ বছরের নিচে কোনও কন্যার যেন বিবাহ না হয়।
পঞ্চমীর দুপুরে মুর্শিদাবাদের লালবাগ শহরে বুধাসপাড়া ফ্রেন্ড একাদশ ক্লাবের ৩৪ তম বর্ষের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,লালবাগ শহরে আসার আমার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিরোধী দলনেতা থাকার সময় আমি তিনবার এই পুজোর উদ্বোধনে এসেছি। তাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অন্তর থেকে এই পুজো উদ্যোক্তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য এবার আমি এসেছি। আমি এখানে আসার সময় একটি বড় ঝিল দেখেছি। আমি সেটাকেও সাজাবো। কিছুদিনের মধ্যেই আমি ফের এখানে আসব এবং নারকেলবাড়িতে ভাগীরথী নদীর উপর একটি ব্রিজের শিলান্যাস করব।
রাজ্যে নতুন করে প্রায় ১৩ হাজার দুর্গাপুজো হওয়ার কারণে মোট পুজোর সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার ছুঁয়েছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমস্ত পুজো কমিটিকে আমরা ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য লাইসেন্স সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দিয়েছি। মুর্শিদাবাদ জেলাতেও প্রায় ৮০০ নতুন দুর্গা পুজোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসনকে তিনি সতর্ক করে বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে সতর্ক থাকবেন। অনেকে চায় আনন্দ নষ্ট হোক। দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। পুলিশ তদন্ত করছে। সম্প্রতি জেলার দু’টি পুজোমণ্ডপে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যার তদন্ত চলছে। তাই পুজোয় যাতে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তার জন্য পুলিশ-প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলিকে আগে থেকেই অত্যন্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি রেজিনগরে নির্বাচনী প্রচারে লজেন্স কুড়োতে গিয়ে মৃত শিশু জেসমিনার মাকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন শুভেন্দু। সেই সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আগেই। মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল তিন জনের। তাঁদের পরিবারগুলিকেও সরকারি চাকরি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য এবার এনিমি প্রপার্টির কাস্টোডিয়ান
কেন্দ্রীয় সরকার এবারের রাজ্য সরকারগুলির হাতে এনিমি প্রপার্টির কাস্টোডিয়ান হিসেবে দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছে বলে আজ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারত সরকার রাজ্যের হাতে যে এনিমি প্রপার্টি বা শত্রু সম্পত্তিগুলির কাস্টডি বা নিয়ন্ত্রণ তুলে দেবে, সেগুলিকেই সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলের বিকাশ ঘটানো হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের পূর্ববর্তী সময়ে ভারত ছেড়ে পাকিস্তান বা অন্য কোনও শত্রু রাষ্ট্রে চলে যাওয়া এবং সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ব্যক্তিদের জমি বা সম্পদকে এনিমি প্রপার্টি বলা হয়। বর্তমানে এগুলির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের দ্য কাস্টডিয়ান অফ এনিমি প্রপার্টি ফর ইন্ডিয়া-র অধীনে ন্যস্ত রয়েছে। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে থাকা ৪,৩৪৪ থেকে ৪,৩৭০টি শত্রু সম্পত্তির মধ্যে একক জেলা হিসেবে মুর্শিদাবাদেই সর্বাধিক-প্রায় ১,৭২৮টি সম্পত্তি অবস্থান করছে। এই সম্পত্তিগুলির তালিকায় রয়েছে সুবিশাল আম বাগান, বড় জলাশয়, কৃষিজমি এবং লালবাগের মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের জমি। বহু বছর ধরে এই মূল্যবান সম্পত্তিগুলির বড় অংশ জবরদখল হয়ে রয়েছে এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে।
















































