বীরভূমে কোটি কোটি টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি নেতার, পাল্টা রাজনৈতিক তরজা তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত
ভারত নিউজ ২৪*৭
কলকাতা: বীরভূমে নগদ কোটি কোটি টাকা ও বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক তখনই আরও এক ধাপ এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানালেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh Corruption Allegation)। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল, যেখানে তৃণমূলের একাংশের এজেন্টদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে তা পুলিশের হাত ঘুরে উচ্চস্তরে পৌঁছত। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আনেননি।
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, তিনি সরাসরি নবান্ন (Nabanna SEO) এবং কালীঘাট (Kalighat SEO)-এর নাম উল্লেখ করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।
বীরভূমে মিনার মণ্ডল (Minar Mondal SEO)-এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৯ কোটি টাকা নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেতা বলেন, কয়লা ও পাথর শিল্প ঘিরে বহুদিন ধরেই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির দাপট ছিল। তাঁর দাবি, সেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগও ছিল।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal SEO)-এর মতো একাধিক ব্যক্তি ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের হয়ে কাজ করা কিছু এজেন্ট অর্থ সংগ্রহ করত এবং সেই অর্থ নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে উপরে পৌঁছে যেত। তবে বর্তমানে সেই পুরনো যোগসূত্র ভেঙে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন একের পর এক ঘটনার তদন্তে বহু তথ্য সামনে আসছে।
আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে টুলু মণ্ডলের পরিবারের বহুচর্চিত বিয়ের অনুষ্ঠানও। ২০২৪ সালে তাঁর মেয়ের বিয়ে নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ ওঠে এবং বলিউড ও টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়।
সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal SEO)-এর বিরুদ্ধে বহু কোটি টাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, তদন্ত যত এগোবে, ততই আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আইন নিজের গতিতে চলুক এবং দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপি নেতা। তিনি রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের বিষয়টিও সামনে আনেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে পঞ্চায়েত স্তর থেকে জমি-বাড়ি হস্তান্তর, কয়লা, বালি ও পরিবহণ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের কারণে সরকারের প্রকৃত রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়েছিল।
দিলীপ ঘোষের দাবি, প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, রাজস্ব আদায় বাড়ার ফলে সরকারি কোষাগারে অর্থ প্রবাহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থও অতীতে যথাযথভাবে ব্যবহার হয়নি, যার ফলে উন্নয়নের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল।
তবে দিলীপ ঘোষের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress SEO) পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হলেও অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার উপরেই নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বীরভূমে সাম্প্রতিক উদ্ধারকাণ্ডকে ঘিরে রাজ্যে দুর্নীতি ইস্যু আবারও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। আগামী দিনে তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না এবং এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
বিতর্কের পারদ ইতিমধ্যেই চড়েছে। এখন দেখার, এই বিস্ফোরক অভিযোগের জবাবে শাসকদল কী অবস্থান নেয় এবং তদন্তে সামনে আসে আর কী কী তথ্য।

















































