‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’-এ বড় ঘোষণা! ১০ লক্ষের বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা, দুর্নীতি ইস্যুতে প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে তোপ শুভেন্দুর
ভারত নিউজ ২৪*৭
একদিকে নতুন নাম, অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা। রাজ্যের আবাসন প্রকল্প ঘিরে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। একই মঞ্চ থেকে প্রাক্তন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণও শানালেন তিনি। সব মিলিয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পকে ঘিরে বৃহস্পতিবার নবান্নে (Nabanna) তৈরি হল নতুন রাজনৈতিক বার্তা।
আগে যে প্রকল্পটি ‘বাংলার বাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল, সেটির নতুন নাম এখন ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। রাজ্য সরকারের দাবি, শুধুমাত্র নাম বদল নয়, প্রকল্পের বাস্তবায়নেও আনা হচ্ছে আরও বেশি স্বচ্ছতা এবং গতি। সেই লক্ষ্যেই ১০ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার জন্য শুরু হল দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে পৌঁছে যাবে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ। এই পর্যায়ে মোট ৬,১২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, যাতে বাড়ি নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করা যায় এবং কোনও মধ্যস্থতার সুযোগ না থাকে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে অন্তত লিন্টেল স্তর পর্যন্ত বাড়ির নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন, তাঁরাই এই পর্যায়ে ৬০ হাজার টাকা করে দ্বিতীয় কিস্তি পাচ্ছেন। সরকারের আশা, এই অর্থ হাতে পাওয়ার পর অসমাপ্ত বাড়ির কাজ দ্রুত এগোবে এবং বহু পরিবার স্থায়ী ছাদের স্বপ্ন পূরণের আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
তবে সব আবেদনকারী এই সুবিধা পাচ্ছেন না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, যাচাই পর্বে ১২ হাজারেরও বেশি উপভোক্তার নথিতে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সেই কারণে আপাতত তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ আটকে রাখা হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই তাঁদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘোষণার মাঝেই রাজনৈতিক বার্তা দিতে ভোলেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অতীতে সাধারণ মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে সরকারি প্রকল্প মানেই কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত উদ্যোগ। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকার কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে কাজ করছে বলেই দাবি করেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বহু মানুষ অপেক্ষায় ছিলেন পরিবর্তনের সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াবে কি না। তাঁর বক্তব্য, এনডিএ (NDA) সরকারের লক্ষ্য কোনও দল বা ধর্ম নয়, প্রকৃত উপভোক্তার হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপ ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ বিতরণ।
প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নামের সঙ্গে রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বাংলার বাড়ি’র পরিবর্তে নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। তাঁর দাবি, এই নাম রাজ্যের পরিচয়কে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।
এদিন আরও একটি বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, যাঁদের নাম এখনও আবাস প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাঁরা আবেদন করতে পারেন। পুজোর পর আরও কয়েক লক্ষ উপভোক্তার হাতে প্রথম কিস্তির অর্থ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার আবেদনকারীর রাজনৈতিক পরিচয়, ধর্ম বা মতাদর্শ নয়, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্যতার ভিত্তিতেই সুবিধা দেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আবাস প্রকল্পে বিপুল অর্থ বরাদ্দ এবং নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত—দুইই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে। কারণ একদিকে সাধারণ মানুষের বাড়ির স্বপ্ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক বার্তা—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোতে চাইছে সরকার।
এখন সবার নজর একটাই—পুজোর পর ঘোষিত নতুন পর্যায়ে আর কত লক্ষ পরিবার ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’-এর আওতায় আসবে, আর এই প্রকল্প কি সত্যিই রাজ্যের আবাসন রাজনীতির নতুন মোড় ঘুরিয়ে দেবে?

















































